ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

কমিটি ঘোষণার পরদিনই বৈষম্যবিরোধী নেত্রীর পদত্যাগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস যুথি। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি লিখিত পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পদত্যাগপত্রে যুথি উল্লেখ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিবৃতিতে কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে তাকে যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো সম্মতি বা মতামত নেওয়া হয়নি, যা তিনি অপমানজনক ও অনভিপ্রেত বলে মনে করেন।

তিনি আরও লেখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি যুক্ত থাকলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক বা অর্ধ-রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী নন। তার মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বর্তমানে একটি অঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি তার কলেজ থেকেও এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

অনুমতি ছাড়া তার নাম ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেন। পদত্যাগপত্রটি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস যুথি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিজেদের অরাজনৈতিক দাবি করলেও বাস্তবে তারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই কাজ করছে। আমি কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না এবং আপাতত রাজনীতিতে জড়ানোরও কোনো ইচ্ছা নেই। আমার পরিবারও সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কলেজের প্রোটোকল ভঙ্গ হোক বা আমার পড়াশোনার ক্ষতি হোক—আমি তা চাই না। এসব বিষয় বিবেচনা করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে সদ্য ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব খন্দকার আল ইমরান বলেন, ‘যুথির সম্মতিতেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে একটি বাম রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কারণে এবং সেই প্ররোচনায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, তার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিবৃতিতে ছয় মাসের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে লোকমান হোসেন লিমনকে আহ্বায়ক, খন্দকার আল ইমরানকে সদস্য সচিব এবং সাকিব মিয়াকে মুখ্য সংগঠক করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কমিটি ঘোষণার পরদিনই বৈষম্যবিরোধী নেত্রীর পদত্যাগ

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস যুথি। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি লিখিত পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পদত্যাগপত্রে যুথি উল্লেখ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিবৃতিতে কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে তাকে যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো সম্মতি বা মতামত নেওয়া হয়নি, যা তিনি অপমানজনক ও অনভিপ্রেত বলে মনে করেন।

তিনি আরও লেখেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি যুক্ত থাকলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক বা অর্ধ-রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী নন। তার মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বর্তমানে একটি অঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি তার কলেজ থেকেও এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

অনুমতি ছাড়া তার নাম ব্যবহারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেন। পদত্যাগপত্রটি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস যুথি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিজেদের অরাজনৈতিক দাবি করলেও বাস্তবে তারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই কাজ করছে। আমি কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না এবং আপাতত রাজনীতিতে জড়ানোরও কোনো ইচ্ছা নেই। আমার পরিবারও সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কলেজের প্রোটোকল ভঙ্গ হোক বা আমার পড়াশোনার ক্ষতি হোক—আমি তা চাই না। এসব বিষয় বিবেচনা করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে সদ্য ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সদস্য সচিব খন্দকার আল ইমরান বলেন, ‘যুথির সম্মতিতেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে একটি বাম রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কারণে এবং সেই প্ররোচনায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সম্পূর্ণ একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, তার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিবৃতিতে ছয় মাসের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে লোকমান হোসেন লিমনকে আহ্বায়ক, খন্দকার আল ইমরানকে সদস্য সচিব এবং সাকিব মিয়াকে মুখ্য সংগঠক করা হয়।