ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ট্রাকের নিচে ঝরল দুই প্রাণ- চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও পুলিশ বক্স ভাংচুর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের ধাওয়ার অভিযোগের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় রিফাত আলী (১৮) ও সোহাগ আহমেদ (১৮) নামে দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পৌর এলাকার ব্যস্ত সার্কিট হাউস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে এবং একাধিক পুলিশ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহত রিফাত আলী পৌর এলাকার আজাইপুর-পচাপুকুর মহল্লার শাহ আলমের ছেলে এবং সোহাগ আহমেদ চান্দলাই-জোড়বাগান মহল্লার আশরাফুল ইসলামের ছেলে। দুই তরুণের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম ওয়াসিম ফিরোজ ও নিহতদের স্বজনরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ সড়কের সার্কিট হাউস মোড়ে টহলরত পুলিশ সদস্যরা রিফাত ও সোহাগের বহনকারী মোটরসাইকেলটি থামার সংকেত দেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিফাত আলীর মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত সোহাগ আহমেদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সোহাগের বাবা আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,“পুলিশের ধাওয়ার কারণে ছেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাঁচতে গিয়েই ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য এই ধাওয়া দায়ী।”

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সার্কিট হাউস মোড়ে সড়কের ওপর একজনের মরদেহ রেখে অবরোধ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বিশ্বরোড মোড়ে পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আসবাবপত্র বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি শান্তিবাগ এলাকার পুলিশ ফাঁড়িতেও ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া করে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সড়ক নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাকের নিচে ঝরল দুই প্রাণ- চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও পুলিশ বক্স ভাংচুর

প্রকাশের সময়ঃ ০২:২৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের ধাওয়ার অভিযোগের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় রিফাত আলী (১৮) ও সোহাগ আহমেদ (১৮) নামে দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পৌর এলাকার ব্যস্ত সার্কিট হাউস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে এবং একাধিক পুলিশ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

নিহত রিফাত আলী পৌর এলাকার আজাইপুর-পচাপুকুর মহল্লার শাহ আলমের ছেলে এবং সোহাগ আহমেদ চান্দলাই-জোড়বাগান মহল্লার আশরাফুল ইসলামের ছেলে। দুই তরুণের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম ওয়াসিম ফিরোজ ও নিহতদের স্বজনরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ সড়কের সার্কিট হাউস মোড়ে টহলরত পুলিশ সদস্যরা রিফাত ও সোহাগের বহনকারী মোটরসাইকেলটি থামার সংকেত দেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিফাত আলীর মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত সোহাগ আহমেদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সোহাগের বাবা আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,“পুলিশের ধাওয়ার কারণে ছেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাঁচতে গিয়েই ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য এই ধাওয়া দায়ী।”

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সার্কিট হাউস মোড়ে সড়কের ওপর একজনের মরদেহ রেখে অবরোধ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বিশ্বরোড মোড়ে পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আসবাবপত্র বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি শান্তিবাগ এলাকার পুলিশ ফাঁড়িতেও ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া করে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সড়ক নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।