ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

মৃত শিক্ষকের পেনশনও ঘুষের শিকার- পেনশন ফাইল আটকে সোয়া লাখ টাকা নিয়ে দুদকের জালে শিক্ষা কর্মকর্তা

সংগৃহীত ছবি।

শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যশোরে পেনশন ফাইল অনুমোদনের নামে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে সোয়া লাখ টাকা ঘুষসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী যশোরের বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরুন্নবী জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ২৩ আগস্ট তিনি মারা যান। স্ত্রীর পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। শুধু তাই নয়, তার এক বন্ধুর পেনশন অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একইভাবে ঘুষ দাবি করা হয়।

নুরুন্নবী বাধ্য হয়ে টাকা সংগ্রহ করে বিষয়টি দুদক যশোর কার্যালয়কে অবহিত করেন। পরে দুদকের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষের টাকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুদক সদস্যরা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

দুদক সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর দুদকের একটি বিশেষ টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয় এবং সফল অভিযান পরিচালনা করে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন আরও জানান, এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসনিক নৈতিকতা

একজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যখন মৃত শিক্ষকের বিধবা পরিবারকে ন্যায্য পেনশনের জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য করেন, তখন দেশের শিক্ষা দপ্তরের সার্বিক অবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে। যে দপ্তর মানবিকতা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের দায়িত্বে নিয়োজিত, সেই দপ্তরেই যদি ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় দাঁড়ায়-সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা প্রশাসনের ভেতরে জবাবদিহিতা ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত শিক্ষকের পেনশনও ঘুষের শিকার- পেনশন ফাইল আটকে সোয়া লাখ টাকা নিয়ে দুদকের জালে শিক্ষা কর্মকর্তা

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যশোরে পেনশন ফাইল অনুমোদনের নামে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে সোয়া লাখ টাকা ঘুষসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী যশোরের বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরুন্নবী জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ২৩ আগস্ট তিনি মারা যান। স্ত্রীর পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। শুধু তাই নয়, তার এক বন্ধুর পেনশন অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একইভাবে ঘুষ দাবি করা হয়।

নুরুন্নবী বাধ্য হয়ে টাকা সংগ্রহ করে বিষয়টি দুদক যশোর কার্যালয়কে অবহিত করেন। পরে দুদকের নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষের টাকা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুদক সদস্যরা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

দুদক সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর দুদকের একটি বিশেষ টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয় এবং সফল অভিযান পরিচালনা করে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন আরও জানান, এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসনিক নৈতিকতা

একজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যখন মৃত শিক্ষকের বিধবা পরিবারকে ন্যায্য পেনশনের জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য করেন, তখন দেশের শিক্ষা দপ্তরের সার্বিক অবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে। যে দপ্তর মানবিকতা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের দায়িত্বে নিয়োজিত, সেই দপ্তরেই যদি ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় দাঁড়ায়-সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা প্রশাসনের ভেতরে জবাবদিহিতা ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে।