ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

বাসচালককে কার্যালয়ে ডেকে মারধরের অভিযোগ, নওগাঁর এএসপির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

ভুক্তভোগী বাসচালক। ছবি-সংগৃহীত

নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে স্বামীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে এক বাসচালককে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার সকালে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের হিমাচল পরিবহনের একটি বাসে। সুপারভাইজার সিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসে ধানসুরা পর্যন্ত সিটবিহীন টিকিট কাটেন এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মণ। তিনি নিজেকে রাজশাহীর একটি কলেজের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে অন্য যাত্রীর সিটে বসেন।

বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছলে সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হলে জয়ন্ত বর্মণ নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ সময় চালক বাদলের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরায় নামার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দেন জয়ন্ত।

ভুক্তভোগী চালক বাদলের অভিযোগ, ধানসুরায় নামার পর একই পরিবহনের সাপাহার কাউন্টারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে তাঁকে ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেওয়া হয়। রাতে বাস নিয়ে সাপাহারে ফিরলে তাঁকে এএসপির কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর শুরু করা হয়। বাদলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় জয়ন্ত বর্মণ এবং এএসপির দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণও তাঁকে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।

মারধরের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান বলে জানান বাদল। পরে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। যন্ত্রণাকাতর বাদল বলেন, ‘আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসযাত্রী স্কুলশিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, শিক্ষিত মানুষ হয়েও জয়ন্ত বর্মণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। রাজশাহী কলেজের ছাত্র সজীব আহমেদের ভাষ্য, স্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি বাসে খুবই অশোভন আচরণ করেছেন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল। তিনি জানান, ঘটনার জেরে স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এএসপিকে প্রত্যাহার ও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়েছে, মারধরের অভিযোগ গুজব। বুধবার এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে বুধবার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ মিডিয়া গ্রুপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

বাসচালককে কার্যালয়ে ডেকে মারধরের অভিযোগ, নওগাঁর এএসপির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে স্বামীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে এক বাসচালককে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার সকালে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের হিমাচল পরিবহনের একটি বাসে। সুপারভাইজার সিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসে ধানসুরা পর্যন্ত সিটবিহীন টিকিট কাটেন এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মণ। তিনি নিজেকে রাজশাহীর একটি কলেজের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে অন্য যাত্রীর সিটে বসেন।

বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছলে সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হলে জয়ন্ত বর্মণ নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এ সময় চালক বাদলের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরায় নামার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দেন জয়ন্ত।

ভুক্তভোগী চালক বাদলের অভিযোগ, ধানসুরায় নামার পর একই পরিবহনের সাপাহার কাউন্টারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে তাঁকে ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেওয়া হয়। রাতে বাস নিয়ে সাপাহারে ফিরলে তাঁকে এএসপির কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর শুরু করা হয়। বাদলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় জয়ন্ত বর্মণ এবং এএসপির দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণও তাঁকে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।

মারধরের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান বলে জানান বাদল। পরে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। যন্ত্রণাকাতর বাদল বলেন, ‘আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসযাত্রী স্কুলশিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, শিক্ষিত মানুষ হয়েও জয়ন্ত বর্মণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। রাজশাহী কলেজের ছাত্র সজীব আহমেদের ভাষ্য, স্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি বাসে খুবই অশোভন আচরণ করেছেন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল। তিনি জানান, ঘটনার জেরে স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এএসপিকে প্রত্যাহার ও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হয়েছে, মারধরের অভিযোগ গুজব। বুধবার এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে বুধবার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ মিডিয়া গ্রুপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।