ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

ভাতিজার কবর খুঁড়তে গিয়ে চাচার মৃত্যু- ১৮ দিনের ব্যবধানে চৌধুরী পরিবারে হৃদয়বিদারক শোক

সাবেক ফুটবলার আবু মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

শোক যেন পিছু ছাড়ছে না চৌধুরী পরিবারকে। চীনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত উজু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার শামীর চৌধুরীর দাফনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আরও এক প্রাণ ঝরে গেল। ভাতিজার দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে কবর খোঁড়ার আয়োজন করতে গিয়ে কবরস্থানে অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক ফুটবলার আবু মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী (৬০)। শেষ পর্যন্ত তাকেও হারাতে হলো পরিবারকে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার পটিয়ার গ্রামের বাড়িতে। আবরার শামীরের দাফনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কবর খোঁড়ার কাজ চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। দ্রুত তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শুক্রবার রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে চাচা ও ভাতিজার এমন করুণ মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর ক্রীড়াঙ্গনও। গত ২২ ডিসেম্বর চীনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আবরার শামীর চৌধুরী। তিনি ছিলেন উজু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং বড় ভাই আবু মো. নুরুল আবছার চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ জানুয়ারি তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভাতিজার লাশ দেশে আসার আগেই কবর প্রস্তুতের কাজে অংশ নিয়ে চিরবিদায় নিলেন চাচা সাইফুল চৌধুরী। যে কবর খোঁড়া হচ্ছিল প্রিয় ভাতিজার শেষ ঠিকানা হিসেবে, সেই প্রস্তুতিই হয়ে উঠল তার নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়—এ দৃশ্য যে কতটা হৃদয়বিদারক, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

প্রয়াত আবু মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি জামালখানের ঐতিহ্যবাহী শতদল ক্লাব জুনিয়রের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপের সাবেক চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক চৌধুরীর সন্তান।

চাচা-ভাতিজার এমন মর্মান্তিক বিদায়ে পরিবার, স্বজন ও ক্রীড়াঙ্গনের সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক আর অপেক্ষার মাঝেই এখন পরিবারটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে আবরার শামীরের মরদেহ দেশে ফেরার বেদনাবিধুর প্রতীক্ষা—যা এই শোককে আরও ভারী করে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

ভাতিজার কবর খুঁড়তে গিয়ে চাচার মৃত্যু- ১৮ দিনের ব্যবধানে চৌধুরী পরিবারে হৃদয়বিদারক শোক

প্রকাশের সময়ঃ ১১:২৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

শোক যেন পিছু ছাড়ছে না চৌধুরী পরিবারকে। চীনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত উজু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার শামীর চৌধুরীর দাফনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আরও এক প্রাণ ঝরে গেল। ভাতিজার দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে কবর খোঁড়ার আয়োজন করতে গিয়ে কবরস্থানে অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক ফুটবলার আবু মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী (৬০)। শেষ পর্যন্ত তাকেও হারাতে হলো পরিবারকে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার পটিয়ার গ্রামের বাড়িতে। আবরার শামীরের দাফনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কবর খোঁড়ার কাজ চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। দ্রুত তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শুক্রবার রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে চাচা ও ভাতিজার এমন করুণ মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর ক্রীড়াঙ্গনও। গত ২২ ডিসেম্বর চীনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আবরার শামীর চৌধুরী। তিনি ছিলেন উজু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং বড় ভাই আবু মো. নুরুল আবছার চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ জানুয়ারি তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভাতিজার লাশ দেশে আসার আগেই কবর প্রস্তুতের কাজে অংশ নিয়ে চিরবিদায় নিলেন চাচা সাইফুল চৌধুরী। যে কবর খোঁড়া হচ্ছিল প্রিয় ভাতিজার শেষ ঠিকানা হিসেবে, সেই প্রস্তুতিই হয়ে উঠল তার নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়—এ দৃশ্য যে কতটা হৃদয়বিদারক, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

প্রয়াত আবু মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি জামালখানের ঐতিহ্যবাহী শতদল ক্লাব জুনিয়রের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপের সাবেক চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক চৌধুরীর সন্তান।

চাচা-ভাতিজার এমন মর্মান্তিক বিদায়ে পরিবার, স্বজন ও ক্রীড়াঙ্গনের সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক আর অপেক্ষার মাঝেই এখন পরিবারটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে আবরার শামীরের মরদেহ দেশে ফেরার বেদনাবিধুর প্রতীক্ষা—যা এই শোককে আরও ভারী করে তুলেছে।