ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলা- সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।সংগৃহীত ছবি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল আগামী বুধবার থেকে এ মামলার যুক্তি–তর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে।

রোববার মামলার অন্যতম আসামি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন সাফাই সাক্ষ্য দেন। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি ডিবি (উত্তর) দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নিজে কোনো অস্ত্র বহন করেননি এবং কাউকে নির্দেশ দেওয়ার মতো কোনো অবস্থানেও ছিলেন না। ইনচার্জের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

মামলার অপর আসামি সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফীর পক্ষে দুজন এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলামের পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষী দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালকে জানান, তারা সাফাই সাক্ষ্য দেবেন না।

এই মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ মামলার অপর আট আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্বিচারে গুলি চালালে একাধিক ব্যক্তি নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। পরে রাতের বেলায় আশুলিয়া থানার অদূরে নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে পুলিশের লেখা একটি পিকআপে আগুনে পোড়া অন্তত দুটি মরদেহ দেখা যায়। এ ছাড়া থানার সামনে আরও একটি পোড়া মরদেহ পাওয়া যায়।

একই সময় পদচারী–সেতুতে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় ক্ষতবিক্ষত দুই পুলিশ সদস্যের লাশ। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, আগুনে ভস্মীভূত আরও একাধিক মরদেহ ওই পিকআপে থাকতে পারে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলা- সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৪৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল আগামী বুধবার থেকে এ মামলার যুক্তি–তর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে।

রোববার মামলার অন্যতম আসামি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন সাফাই সাক্ষ্য দেন। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি ডিবি (উত্তর) দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নিজে কোনো অস্ত্র বহন করেননি এবং কাউকে নির্দেশ দেওয়ার মতো কোনো অবস্থানেও ছিলেন না। ইনচার্জের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

মামলার অপর আসামি সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফীর পক্ষে দুজন এবং সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলামের পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষী দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালকে জানান, তারা সাফাই সাক্ষ্য দেবেন না।

এই মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ মামলার অপর আট আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্বিচারে গুলি চালালে একাধিক ব্যক্তি নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। পরে রাতের বেলায় আশুলিয়া থানার অদূরে নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে পুলিশের লেখা একটি পিকআপে আগুনে পোড়া অন্তত দুটি মরদেহ দেখা যায়। এ ছাড়া থানার সামনে আরও একটি পোড়া মরদেহ পাওয়া যায়।

একই সময় পদচারী–সেতুতে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় ক্ষতবিক্ষত দুই পুলিশ সদস্যের লাশ। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, আগুনে ভস্মীভূত আরও একাধিক মরদেহ ওই পিকআপে থাকতে পারে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।