ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

এইচএসসি পাসে নিউরো বিশেষজ্ঞ! রাজশাহীতে ভুয়া ‘ডা. রফিকুল’ গ্রেপ্তার

ভূয়া ‘নিউরো বিশেষজ্ঞ নুরুল।

রাজশাহীতে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। এইচএসসি পাস এক ব্যক্তি নিজেকে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে বছরের পর বছর ব্রেন ও নার্ভের চিকিৎসা করে আসছিলেন। নুরুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি রোগীদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘ডা. মো. রফিকুল হাসান’ নামে। ভুয়া ডিগ্রি ও ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা চালানোর দায়ে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরের বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন) ও এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন) ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। বাস্তবে এসব ডিগ্রির কোনো বৈধতা না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখতেন।

রোববার সকালে ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় হাসপাতালের চেম্বার ও সাইনবোর্ডে দেখা যায়, নুরুল ইসলামের নাম লেখা রয়েছে ‘ডা. মো. রফিকুল হাসান’ হিসেবে। পাশাপাশি তাকে কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেও উল্লেখ করা ছিল, যা তদন্তে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

সাইনবোর্ডে আরও দাবি করা হয়, তিনি ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। অথচ তদন্তে দেখা যায়, এসব তথ্য ছিল সরাসরি প্রতারণা এবং রোগীদের জীবন নিয়ে ভয়ংকর ঝুঁকির নামান্তর।

অভিযানের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার কাছে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। শুনানি শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত নুরুল ইসলামকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ড কার্যকর শেষে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

এ ঘটনায় আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। জেনে-শুনে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক নুরুল ইসলাম শুধু ভবানীগঞ্জেই নয়, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার সেভেন স্টার ক্লিনিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকেও নিয়মিত চিকিৎসা দিতেন। তার দেওয়া চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ ছিল।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন,
“জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া চিকিৎসক, অবৈধ ক্লিনিক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান চলবে।”

ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

এইচএসসি পাসে নিউরো বিশেষজ্ঞ! রাজশাহীতে ভুয়া ‘ডা. রফিকুল’ গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৫৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীতে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। এইচএসসি পাস এক ব্যক্তি নিজেকে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে বছরের পর বছর ব্রেন ও নার্ভের চিকিৎসা করে আসছিলেন। নুরুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি রোগীদের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘ডা. মো. রফিকুল হাসান’ নামে। ভুয়া ডিগ্রি ও ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা চালানোর দায়ে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলাম রাজশাহী মহানগরের বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস, এমসিপিএস (মেডিসিন) ও এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন) ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। বাস্তবে এসব ডিগ্রির কোনো বৈধতা না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখতেন।

রোববার সকালে ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় হাসপাতালের চেম্বার ও সাইনবোর্ডে দেখা যায়, নুরুল ইসলামের নাম লেখা রয়েছে ‘ডা. মো. রফিকুল হাসান’ হিসেবে। পাশাপাশি তাকে কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেও উল্লেখ করা ছিল, যা তদন্তে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

সাইনবোর্ডে আরও দাবি করা হয়, তিনি ব্রেইন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। অথচ তদন্তে দেখা যায়, এসব তথ্য ছিল সরাসরি প্রতারণা এবং রোগীদের জীবন নিয়ে ভয়ংকর ঝুঁকির নামান্তর।

অভিযানের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার কাছে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। শুনানি শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত নুরুল ইসলামকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ড কার্যকর শেষে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

এ ঘটনায় আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। জেনে-শুনে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক নুরুল ইসলাম শুধু ভবানীগঞ্জেই নয়, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার সেভেন স্টার ক্লিনিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকেও নিয়মিত চিকিৎসা দিতেন। তার দেওয়া চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ ছিল।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন,
“জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া চিকিৎসক, অবৈধ ক্লিনিক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান চলবে।”

ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি শক্ত বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।