
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মায়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৫৩ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিশুটির নাম আফনান (১২)। সে ওই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, রাতভর সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বিজিবি জানায়, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলাকালে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে ৫৩ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা মায়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মায়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি, আরসা, আরএসও ও নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। এর ফলে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, মায়ানমার থেকে আসা গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সীমান্ত পরিস্থিতি থমথমে হয়ে আছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 





















