
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ ভয়াবহভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে মৌলিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সুজন রাজশাহী জেলা ও মহানগরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী অঙ্গন ও রাজনৈতিক দলগুলোতে কালো টাকার প্রভাব এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ দিতে না পারায় প্রার্থীরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অতীতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে শাসক দলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এর ফলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায় রাখতে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে প্রধানমন্ত্রী অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন। সেই পুরোনো ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রার্থীরা অংশ নেন। তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সৈয়দ মাসুদ রাজশাহী 


















