ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

কারাগার অপরাধীর সংশোধনের স্থান হওয়া উচিত- কারা মহাপরিদর্শক

বৃহস্পতিবার রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘৬৩তম ব্যাচ কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান হয়।

কারাগার শুধু অপরাধীদের আটকে রাখার স্থান নয়; বরং এটি একজন বিপথগামী মানুষকে সংশোধনের মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার কার্যকর প্রতিষ্ঠান—এমন মন্তব্য করেছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত ‘৬৩তম ব্যাচ কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কারা বিভাগ একটি সুপ্রাচীন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান, যার মূল লক্ষ্য হলো বন্দিদের সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা।

কারা মহাপরিদর্শক আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ জেলের কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দিদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে সংশোধনের মাধ্যমে সমাজে পুনঃস্থাপন করাই কারা বিভাগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নবীন কারারক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারারক্ষীর জীবন কেবল একটি পেশা নয়; এটি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি জীবনব্যবস্থা। তারা যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, তা কারারক্ষী জীবনের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তাদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমাপনী কুচকাওয়াজে মোট ৬৮৭ জন নবীন কারারক্ষী অংশ নেন। সার্বিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন কারারক্ষী নির্বাচিত হন মো. তানভীন আহমেদ। ড্রিলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন মো. রাকিব মিয়া, পিটিতে মো. বাপ্পি হোসেন, ফায়ারিংয়ে দ্বিপংকর দাস, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধে মো. রনি হোসেন এবং একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হন মো. রিয়ন ইসলাম রোকন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. তানভীর হোসেন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজশাহী সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নবীন কারারক্ষীদের অভিভাবক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

কারাগার অপরাধীর সংশোধনের স্থান হওয়া উচিত- কারা মহাপরিদর্শক

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

কারাগার শুধু অপরাধীদের আটকে রাখার স্থান নয়; বরং এটি একজন বিপথগামী মানুষকে সংশোধনের মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার কার্যকর প্রতিষ্ঠান—এমন মন্তব্য করেছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত ‘৬৩তম ব্যাচ কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কারা বিভাগ একটি সুপ্রাচীন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান, যার মূল লক্ষ্য হলো বন্দিদের সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা।

কারা মহাপরিদর্শক আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ জেলের কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দিদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে সংশোধনের মাধ্যমে সমাজে পুনঃস্থাপন করাই কারা বিভাগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নবীন কারারক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারারক্ষীর জীবন কেবল একটি পেশা নয়; এটি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি জীবনব্যবস্থা। তারা যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, তা কারারক্ষী জীবনের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তাদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমাপনী কুচকাওয়াজে মোট ৬৮৭ জন নবীন কারারক্ষী অংশ নেন। সার্বিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন কারারক্ষী নির্বাচিত হন মো. তানভীন আহমেদ। ড্রিলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন মো. রাকিব মিয়া, পিটিতে মো. বাপ্পি হোসেন, ফায়ারিংয়ে দ্বিপংকর দাস, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধে মো. রনি হোসেন এবং একাডেমিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হন মো. রিয়ন ইসলাম রোকন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. তানভীর হোসেন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজশাহী সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নবীন কারারক্ষীদের অভিভাবক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।