ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

সবাই আ. লীগের ভোট চাইছে, জাতীয় পার্টি চাইলে অপরাধ- জিএম কাদের

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জিএম কাদের অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভোট চাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের ভোট চাইছে, অথচ জাতীয় পার্টি একই কথা বললেই তাদের ‘দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনও নিষিদ্ধ নয়। রাজনীতি করতে না দেওয়া হলেও তাদের নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো নজির বিশ্বে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ভোট অন্য দল চাইলে সমস্যা নেই, কিন্তু জাতীয় পার্টি চাইলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক বৈষম্যের শামিল।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারপ্রধান নিজেই বলেছেন, তাদের নিয়োগকর্তা ছাত্র-সমন্বয়করা। পরবর্তীতে এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে ছাত্র-সমন্বয়কদের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য আসে, যার বিরোধিতা কেউ করেনি। এতে বোঝা যায়, বর্তমান নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্বয়ংক্রিয় বা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা আশা করা যায় না। সরকার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করা অবাস্তব। আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব বাধা উপেক্ষা করেই রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জিএম কাদের।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’—এই দুই বিকল্পের মধ্যে একটিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকারের মতের বাইরে ভোট দিলে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া এই গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে, যা বেআইনি ও অবৈধ।

তিনি বলেন, গণভোটে সরকারি অর্থ ও প্রশাসন ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কোনো ভোটের ফলাফল জাতীয় পার্টি মেনে নেবে না। কারচুপির মাধ্যমে একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় নেতা হাসানুজ্জামান নাজিমসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

সভা শেষে জিএম কাদের রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব, ওয়ালটন মোড় ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সবাই আ. লীগের ভোট চাইছে, জাতীয় পার্টি চাইলে অপরাধ- জিএম কাদের

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জিএম কাদের অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভোট চাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের ভোট চাইছে, অথচ জাতীয় পার্টি একই কথা বললেই তাদের ‘দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনও নিষিদ্ধ নয়। রাজনীতি করতে না দেওয়া হলেও তাদের নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো নজির বিশ্বে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ভোট অন্য দল চাইলে সমস্যা নেই, কিন্তু জাতীয় পার্টি চাইলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক বৈষম্যের শামিল।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারপ্রধান নিজেই বলেছেন, তাদের নিয়োগকর্তা ছাত্র-সমন্বয়করা। পরবর্তীতে এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে ছাত্র-সমন্বয়কদের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য আসে, যার বিরোধিতা কেউ করেনি। এতে বোঝা যায়, বর্তমান নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, স্বয়ংক্রিয় বা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা আশা করা যায় না। সরকার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ আচরণ প্রত্যাশা করা অবাস্তব। আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব বাধা উপেক্ষা করেই রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জিএম কাদের।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’—এই দুই বিকল্পের মধ্যে একটিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকারের মতের বাইরে ভোট দিলে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া এই গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে, যা বেআইনি ও অবৈধ।

তিনি বলেন, গণভোটে সরকারি অর্থ ও প্রশাসন ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কোনো ভোটের ফলাফল জাতীয় পার্টি মেনে নেবে না। কারচুপির মাধ্যমে একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় নেতা হাসানুজ্জামান নাজিমসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

সভা শেষে জিএম কাদের রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব, ওয়ালটন মোড় ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন।