
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন করায় এক রোগীর স্বজনকে কক্ষ আটকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় গুরুতর আহত এক যুবক মাথায় ছয়টি সেলাই নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নারী ও কিশোরসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঘটনার শিকার জুয়েল ইসলাম (৩৬) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাঘা থানায় পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি উপজেলার উত্তর গাঁওপাড়া এলাকার জমির উদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গড়গড়ি ইউনিয়নের বেংগাড়ি এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাব্বি (১৪) নামের এক কিশোর আহত হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী জুয়েল ইসলামের দাবি, আহত কিশোরের অবস্থার অবনতি হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন করলে চিকিৎসক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আমি যা চিকিৎসা দিয়েছি, এর চেয়ে ভালো এখানে হবে না।” এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করার অনুরোধ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রেফার্ড চাওয়ার পর হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় পুরো ঘটনা মোবাইলে ধারণ করতে গেলে হাসপাতালের ভেতরে কেচি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও কাঠের খড়ি দিয়ে জুয়েল ইসলামসহ তাঁর সঙ্গে থাকা স্বজনদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়।
মারধরের ঘটনায় জুয়েল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং ছয়টি সেলাই দিতে হয়। এ সময় রূপবান বেগম ও তুষার (১৫) নামের আরও দুজন আহত হন।
লিখিত অভিযোগে হামলায় জড়িত হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ, মেডিকেল স্টাফ আব্দুল আজিজ, নৈশপ্রহরী সোহেল রানা এবং হাসপাতাল গেটসংলগ্ন ওষুধের দোকানের কর্মচারী এলিম (৩০), শাওন (৩০) ও মারুফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি অভিযোগ করেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার সঙ্গে রাজনৈতিক ভাষায় কটুক্তি করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, “একজন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্যসেবার নামে এ ধরনের সহিংসতা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরকারি হাসপাতালের ভেতরে রোগীর স্বজনকে কক্ষে আটকে মারধরের মতো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সৈয়দ মাসুদ রাজশাহী 


















