ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

শিবগঞ্জেনিম্নমানের ইটে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

২ ও ৩ নম্বর নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সফিকুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর–হামিদনগর আঞ্চলিক সড়কে পিচ-কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি), শিবগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

🔍 স্থানীয়দের অভিযোগ

এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত উন্নতমানের (১ নম্বর) ইটের পরিবর্তে ২ ও ৩ নম্বর নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “চোখের সামনেই আমরা দেখছি নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা টেকসই ও মানসম্মত রাস্তা চাই।”

⚡ ঠিকাদারের পাল্টা বক্তব্য

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. ওয়হাবুল ইসলাম উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, “আমি কোনো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছি না। পুরো কাজই উন্নতমানের ১ নম্বর ইট দিয়ে করা হচ্ছে।”

💰 প্রকল্প ব্যয়

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার ৬২১ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সফিকুল ইসলাম।

🏛️ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে এলজিইডি শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

❗ প্রশ্ন উঠছে জবাবদিহি নিয়ে

সরকারি অর্থে উন্নয়ন কাজে এ ধরনের অভিযোগ স্থানীয় জনগণের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়—তদন্তে কী উঠে আসে এবং আদৌ মান রক্ষা হবে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবগঞ্জেনিম্নমানের ইটে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সফিকুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর–হামিদনগর আঞ্চলিক সড়কে পিচ-কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি), শিবগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

🔍 স্থানীয়দের অভিযোগ

এলাকাবাসীর দাবি, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত উন্নতমানের (১ নম্বর) ইটের পরিবর্তে ২ ও ৩ নম্বর নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, “চোখের সামনেই আমরা দেখছি নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা টেকসই ও মানসম্মত রাস্তা চাই।”

⚡ ঠিকাদারের পাল্টা বক্তব্য

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. ওয়হাবুল ইসলাম উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, “আমি কোনো নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছি না। পুরো কাজই উন্নতমানের ১ নম্বর ইট দিয়ে করা হচ্ছে।”

💰 প্রকল্প ব্যয়

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার ৬২১ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সফিকুল ইসলাম।

🏛️ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে এলজিইডি শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

❗ প্রশ্ন উঠছে জবাবদিহি নিয়ে

সরকারি অর্থে উন্নয়ন কাজে এ ধরনের অভিযোগ স্থানীয় জনগণের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়—তদন্তে কী উঠে আসে এবং আদৌ মান রক্ষা হবে কি না।