
শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের তিন দিন পর অবশেষে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঝিনাইগাতী থানায় মামলাটি করেন নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া (৩৪)।
মামলায় ২৩৪ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের বহু নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান রাতে মামলার তথ্য নিশ্চিত করলেও আসামিদের নাম প্রকাশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তিনি জানান, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দলীয়ভাবে আইনি লড়াই চালানো হবে।
এর আগে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে প্রত্যাহার করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শেরপুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রার্থীদের বিষয়ে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রেজাউল করিম হত্যার প্রতিবাদে শেরপুর জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে মাইসাহেবা মসজিদের সামনে থেকে জেলা জামায়াতের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি গেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে জেলাজুড়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তারা আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কর্মসূচিতে বাধা এলে জামায়াত নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারেও প্রস্তুত থাকবে।
বক্তারা প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, রেজাউল করিম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তারা জানান।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

















