ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ভোট ডাকাত ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো ছাড় নয়: রাজশাহীতে ডাঃ শফিকুর রহমান

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এবার কোনো ভোট ডাকাত, কোনো ভোট চোর কিংবা ভোট ইঞ্জিনিয়ার—কারো জন্যই কোনো ছাড় নেই।” তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে দেশের মানুষ একটি প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ১৩ তারিখ থেকে কোনো দলীয় সরকার, পরিবারতান্ত্রিক সরকার বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক শাসন চাই না। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। সেই বিজয় অর্জিত হলে সেটি সবার বিজয় হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সেই দিন আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা সিজদায় পড়ে যাবো। এখন থেকেই দোয়া করুন—কোনো অশুভ শক্তি যেন আমাদের স্বপ্ন নষ্ট করতে না পারে। সতর্ক থাকতে হবে, পাহারা বসাতে হবে।”

ভোটের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদী, আর না মানে গোলামী। ইনশাআল্লাহ প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ।”

সমালোচনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “যাদের অতীতে চরিত্রগত দুর্বলতা ছিল, যারা এখনো লোভ সামলাতে পারেনি—তাদের হাতে কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায়? যারা এখন জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তারা ভবিষ্যতে পারবে—এমন বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।”

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় দখলদারিত্ব ও সংঘাতের রাজনীতিতে জড়িয়ে নিজেদের দলের লোকজনও প্রাণ হারিয়েছে। এরপর ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও গালিগালাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “যারা চাঁদাবাজি করে না, দুর্নীতি করে না, মানুষকে হয়রানি করে না—আজ তাদেরই জালেম বলা হচ্ছে। এ কোন বাস্তবতায় আমরা এসে দাঁড়ালাম?”

জনসমাবেশে তিনি আরও বলেন, “আজ দেশের যুব সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে জেগে উঠেছে। মা-বোনরাও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে অনেকে অস্থির হয়ে পড়েছে। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। রাগ করলে হার নিশ্চিত।”

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা ইতোমধ্যে লাল কার্ড দেখিয়েছে। আগামী ১২ তারিখেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানো হবে। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন—সেটা বিষয় না, ফ্যাসিবাদ মানেই লাল কার্ড।”

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের সুগার মিলগুলো লোকসানী হওয়ার কথা নয়। আমাদের দেশে আখ উৎপাদন হয়। চুরি ও দুর্নীতির কারণেই এসব শিল্প লোকসানে পড়েছে।”

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট ডাকাত ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো ছাড় নয়: রাজশাহীতে ডাঃ শফিকুর রহমান

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:২৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এবার কোনো ভোট ডাকাত, কোনো ভোট চোর কিংবা ভোট ইঞ্জিনিয়ার—কারো জন্যই কোনো ছাড় নেই।” তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে দেশের মানুষ একটি প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ১৩ তারিখ থেকে কোনো দলীয় সরকার, পরিবারতান্ত্রিক সরকার বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক শাসন চাই না। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। সেই বিজয় অর্জিত হলে সেটি সবার বিজয় হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সেই দিন আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা সিজদায় পড়ে যাবো। এখন থেকেই দোয়া করুন—কোনো অশুভ শক্তি যেন আমাদের স্বপ্ন নষ্ট করতে না পারে। সতর্ক থাকতে হবে, পাহারা বসাতে হবে।”

ভোটের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদী, আর না মানে গোলামী। ইনশাআল্লাহ প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ।”

সমালোচনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “যাদের অতীতে চরিত্রগত দুর্বলতা ছিল, যারা এখনো লোভ সামলাতে পারেনি—তাদের হাতে কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায়? যারা এখন জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তারা ভবিষ্যতে পারবে—এমন বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।”

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় দখলদারিত্ব ও সংঘাতের রাজনীতিতে জড়িয়ে নিজেদের দলের লোকজনও প্রাণ হারিয়েছে। এরপর ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও গালিগালাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “যারা চাঁদাবাজি করে না, দুর্নীতি করে না, মানুষকে হয়রানি করে না—আজ তাদেরই জালেম বলা হচ্ছে। এ কোন বাস্তবতায় আমরা এসে দাঁড়ালাম?”

জনসমাবেশে তিনি আরও বলেন, “আজ দেশের যুব সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে জেগে উঠেছে। মা-বোনরাও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে অনেকে অস্থির হয়ে পড়েছে। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। রাগ করলে হার নিশ্চিত।”

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা ইতোমধ্যে লাল কার্ড দেখিয়েছে। আগামী ১২ তারিখেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানো হবে। ফ্যাসিবাদ নতুন না পুরাতন—সেটা বিষয় না, ফ্যাসিবাদ মানেই লাল কার্ড।”

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের সুগার মিলগুলো লোকসানী হওয়ার কথা নয়। আমাদের দেশে আখ উৎপাদন হয়। চুরি ও দুর্নীতির কারণেই এসব শিল্প লোকসানে পড়েছে।”

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।