ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

‘রাজার ছেলে রাজা’ রাজনীতির অবসান চাই: রাজশাহীতে ১১ দলীয় জোটের জনসভা

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে বংশানুক্রমিক ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান চেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এই দেশে আর ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—এমন রাজনীতি চলবে না। রাজনীতি হবে মেধা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে আর কখনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি চলবে না। আমরা প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, তবে তা হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর কোনো সম্পর্ক আমরা চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই—এই লক্ষ্যেই আমাদের সোনার ছেলেরা একদিন গুলিকে পরোয়া করেনি।”

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চায়। “আল্লাহর বিধান কখনো জুলুমের পক্ষে হতে পারে না। এদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সাঁওতাল ভাই-বোনসহ সবাই এই দেশের অংশ। আমরা আর জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না।”

১১ দলীয় ঐক্য জোটের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের স্লোগান ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’। মানুষে মানুষে বিভেদ, হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করার রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না।”

ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় পেলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের মাধ্যমে যদি আল্লাহ আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।”

রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, সুগার মিল আধুনিকায়ন, ডেন্টাল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে, রাজশাহীর ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে এত বড় নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হলো। দুপুরের মধ্যেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘রাজার ছেলে রাজা’ রাজনীতির অবসান চাই: রাজশাহীতে ১১ দলীয় জোটের জনসভা

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে বংশানুক্রমিক ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান চেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এই দেশে আর ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—এমন রাজনীতি চলবে না। রাজনীতি হবে মেধা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে আর কখনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি চলবে না। আমরা প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, তবে তা হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর কোনো সম্পর্ক আমরা চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই—এই লক্ষ্যেই আমাদের সোনার ছেলেরা একদিন গুলিকে পরোয়া করেনি।”

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চায়। “আল্লাহর বিধান কখনো জুলুমের পক্ষে হতে পারে না। এদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সাঁওতাল ভাই-বোনসহ সবাই এই দেশের অংশ। আমরা আর জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না।”

১১ দলীয় ঐক্য জোটের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের স্লোগান ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’। মানুষে মানুষে বিভেদ, হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করার রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না।”

ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় পেলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের মাধ্যমে যদি আল্লাহ আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।”

রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, সুগার মিল আধুনিকায়ন, ডেন্টাল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে, রাজশাহীর ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে এত বড় নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হলো। দুপুরের মধ্যেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।