ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

রাজশাহীর ছয়টি আসনে বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জমজমাট ভোটের মাঠ

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের (সাবেক) উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ ছয় প্রার্থী। ছবি-সংগৃহতি

গ্রামের চা-স্টল থেকে শুরু করে হাটবাজার, পাড়ার বৈঠকখানা কিংবা শহরের মোড়ের আড্ডা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বিভাগীয় শহর রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ফিরেছে নির্বাচনি প্রাণচাঞ্চল্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ।

মাঠ পর্যায়ের প্রচার, দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজশাহীর ছয়টি আসনেই এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই লড়াই শুধু দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিদ্রোহী প্রার্থী, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, ভোটব্যাংক ও ভোটার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনের সমীকরণ হয়ে উঠেছে জটিল।

রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুজনই প্রভাবশালী প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় মূল লড়াই তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে উভয় পক্ষই বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক চালাচ্ছে।

রাজশাহী-২ (সদর):
এ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াতের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। নগর এলাকায় নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের আকর্ষণে দুই দলই বিশেষ প্রচারণা জোরদার করেছে।

রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর):
বিএনপির অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও জামায়াতের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরাসরি মতবিনিময় সভায় দুই দলই সক্রিয় রয়েছে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা):
এই আসনে বিএনপির ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদারের পাশাপাশি আরও প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি প্রায় সমান হওয়ায় এই ভোটাররাই ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর):
বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল ও জামায়াতের মনজুর রহমানসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে আছেন। এখানে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজশাহী-৬ (বাঘা–চারঘাট):
বিএনপির জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ ও জামায়াতের অধ্যক্ষ নাজমুল হকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে উভয় পক্ষই প্রচারণা জোরদার করেছে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে কোনো দলই সহজ জয় পাচ্ছে না। মোহনপুরের এক কৃষক বলেন, “এবার কোন দিকে বাতাস বইছে বোঝা যাচ্ছে না।” একইভাবে তরুণ ও নারী ভোটাররাও উন্নয়ন ও নতুন নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহীতে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত তৃণমূল সংগঠনকে গুছিয়ে মাঠে নামানোয় কয়েকটি আসনে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই এখন উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। মাঠের সংগঠন, ভোটার উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের সমীকরণই নির্ধারণ করবে কার হাতে যাবে জেলার সংসদীয় আসনগুলো—এমনটাই মনে করছেন ভোটার ও বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীর ছয়টি আসনে বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জমজমাট ভোটের মাঠ

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গ্রামের চা-স্টল থেকে শুরু করে হাটবাজার, পাড়ার বৈঠকখানা কিংবা শহরের মোড়ের আড্ডা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বিভাগীয় শহর রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ফিরেছে নির্বাচনি প্রাণচাঞ্চল্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ।

মাঠ পর্যায়ের প্রচার, দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজশাহীর ছয়টি আসনেই এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই লড়াই শুধু দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিদ্রোহী প্রার্থী, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, ভোটব্যাংক ও ভোটার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনের সমীকরণ হয়ে উঠেছে জটিল।

রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুজনই প্রভাবশালী প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় মূল লড়াই তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে উভয় পক্ষই বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক চালাচ্ছে।

রাজশাহী-২ (সদর):
এ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াতের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। নগর এলাকায় নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের আকর্ষণে দুই দলই বিশেষ প্রচারণা জোরদার করেছে।

রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর):
বিএনপির অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও জামায়াতের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরাসরি মতবিনিময় সভায় দুই দলই সক্রিয় রয়েছে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা):
এই আসনে বিএনপির ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদারের পাশাপাশি আরও প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতি প্রায় সমান হওয়ায় এই ভোটাররাই ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর):
বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল ও জামায়াতের মনজুর রহমানসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে আছেন। এখানে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজশাহী-৬ (বাঘা–চারঘাট):
বিএনপির জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ ও জামায়াতের অধ্যক্ষ নাজমুল হকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে উভয় পক্ষই প্রচারণা জোরদার করেছে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে কোনো দলই সহজ জয় পাচ্ছে না। মোহনপুরের এক কৃষক বলেন, “এবার কোন দিকে বাতাস বইছে বোঝা যাচ্ছে না।” একইভাবে তরুণ ও নারী ভোটাররাও উন্নয়ন ও নতুন নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজশাহীতে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত তৃণমূল সংগঠনকে গুছিয়ে মাঠে নামানোয় কয়েকটি আসনে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই এখন উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। মাঠের সংগঠন, ভোটার উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের সমীকরণই নির্ধারণ করবে কার হাতে যাবে জেলার সংসদীয় আসনগুলো—এমনটাই মনে করছেন ভোটার ও বিশ্লেষকরা।