
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদ বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো পিআর পদ্ধতির মতোই গণভোটের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে বুঝে উঠতে পারেনি। হ্যাঁ ও না—এই দুটির প্রকৃত অর্থ ও প্রভাব অনেকের কাছেই অস্পষ্ট রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হারুনুর রশিদ তার বক্তব্যে বলেন, গত শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইমাম প্রায় ১০ থেকে ১২ মিনিটের একটি খুতবা দিয়েছেন, যা বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বয়ানে ভোটারদের উদ্দেশে বলা হয়েছে—ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু প্রতীক দেখে নয়, বরং প্রার্থীর চরিত্র, যোগ্যতা এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার সক্ষমতা বিবেচনা করেই ভোট দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইমাম ভোটকে একটি বড় আমানত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ভয়ভীতি, হুমকি বা অতীতের অপরাধের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
গণভোট প্রসঙ্গে হারুনুর রশিদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সামনে দুটি ব্যালট থাকবে। একটি ব্যালটে সরকার গঠনের জন্য পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে এবং অন্য ব্যালটে গণভোটের প্রশ্নে হ্যাঁ বা না চিহ্ন দিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি বিভিন্ন জায়গায় মানুষের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়েছেন—গণভোটে হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন, বিষয়টি অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি বিশেষ বিদেশি শক্তির ইন্ধনে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কথা বলছে। এসব সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপি অংশ নিয়েছে এবং কিছু বিষয়ে একমতও হয়েছে। তবে সমস্যা হলো, গণভোটে একাধিক বিষয় একসঙ্গে যুক্ত থাকায় ভোটারদের আলাদা করে মত দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ হয়তো কিছু বিষয়ে সম্মত, আবার কিছু বিষয়ে অসম্মত—কিন্তু এখানে সবকিছুতেই একসঙ্গে হ্যাঁ বা না বলতে হচ্ছে।
এই কারণেই বায়তুল মোকাররমের খতিব বারবার জেনে বুঝে ভোট দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, শুধু ইসলামি শব্দ বা পরিচয় থাকলেই কোনো বিষয়ে ভোট দেওয়া যায়—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও খতিব তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তবিউল ইসলাম তারিফ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক তসিকুল ইসলাম তসি, রানিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমত আলীসহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















