ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

লক্ষ্মীপুরে ভোট কেনাবেচার অভিযোগে উত্তাপ-জামায়াত ও বিএনপি

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ফাইল ছবি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে নগদ অর্থ বিতরণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে উভয় পক্ষ। সহিংসতা এড়াতে কঠোর নজরদারিরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন আসনটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ

দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, বিএনপি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ১১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রেজাউল করিমের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতা ও এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে তাদের নারী সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বিএনপির পাল্টা অভিযোগ

এর আগে সকালে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাতের আঁধারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ টাকা ও ঘর নির্মাণের প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি দাবি করেন, পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে জামায়াতের এক স্থানীয় নেতা নগদ অর্থ বিতরণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। পরে আর এ ধরনের কাজ করবেন না—এ মর্মে আশ্বাস দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হ্যাপি চৌধুরীর অভিযোগ, জামায়াত প্রার্থী নিজেও একাধিক স্থানে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সুবিধার আশ্বাস দিয়ে ভোট চেয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ইউপি সদস্য জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুই দলের নেতাকর্মীরা ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণ করছেন বলে তারা শুনেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলায় ভোট কেনাবেচার প্রতিযোগিতা চলছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু তথ্য নজরে এসেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসির সতর্কবার্তা

নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো, নগদ অর্থ বিতরণ ও ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিমকে আগে থেকেই সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধি পুনরায় লঙ্ঘিত হলে প্রার্থিতা বাতিলেরও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে ভোট কেনাবেচার অভিযোগে উত্তাপ-জামায়াত ও বিএনপি

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে নগদ অর্থ বিতরণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে উভয় পক্ষ। সহিংসতা এড়াতে কঠোর নজরদারিরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন আসনটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ

দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, বিএনপি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ১১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রেজাউল করিমের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতা ও এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে তাদের নারী সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বিএনপির পাল্টা অভিযোগ

এর আগে সকালে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাতের আঁধারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ টাকা ও ঘর নির্মাণের প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি দাবি করেন, পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে জামায়াতের এক স্থানীয় নেতা নগদ অর্থ বিতরণ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। পরে আর এ ধরনের কাজ করবেন না—এ মর্মে আশ্বাস দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হ্যাপি চৌধুরীর অভিযোগ, জামায়াত প্রার্থী নিজেও একাধিক স্থানে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সুবিধার আশ্বাস দিয়ে ভোট চেয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চারজন ইউপি সদস্য জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুই দলের নেতাকর্মীরা ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণ করছেন বলে তারা শুনেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলায় ভোট কেনাবেচার প্রতিযোগিতা চলছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু তথ্য নজরে এসেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসির সতর্কবার্তা

নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো, নগদ অর্থ বিতরণ ও ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিমকে আগে থেকেই সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধি পুনরায় লঙ্ঘিত হলে প্রার্থিতা বাতিলেরও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।