ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

খুলনায় ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার মৃত্যু

খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনার মধ্যে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। তার বাড়ি নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। তিনি দাবি করেন, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। তাকে বাধা দিতে গেলে অধ্যক্ষ মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের নারী কর্মীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। তিনি বলেন, ধাক্কাধাক্কি বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে এবং এটি তার এখতিয়ারের মধ্যে নয়।

সদর থানার এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পার্থ রায় জানান, মহিবুজ্জামান কচিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতার ধাক্কায় কচির মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াতকে জড়ানো দুঃখজনক। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, তিনি ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কেন্দ্রের সামনে কিছু নারীকে বের করে দেওয়ার ঘটনা দেখে সবাইকে সরে যেতে বলেন, তবে কাউকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার মৃত্যু

প্রকাশের সময়ঃ ১২:০২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনার মধ্যে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। তার বাড়ি নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। তিনি দাবি করেন, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। তাকে বাধা দিতে গেলে অধ্যক্ষ মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের নারী কর্মীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। তিনি বলেন, ধাক্কাধাক্কি বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে এবং এটি তার এখতিয়ারের মধ্যে নয়।

সদর থানার এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পার্থ রায় জানান, মহিবুজ্জামান কচিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতার ধাক্কায় কচির মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াতকে জড়ানো দুঃখজনক। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, তিনি ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কেন্দ্রের সামনে কিছু নারীকে বের করে দেওয়ার ঘটনা দেখে সবাইকে সরে যেতে বলেন, তবে কাউকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।