ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ময়মনসিংহে বিএনপির ৩টি আসন হারানোর নেপথ্যে বিদ্রোহী

সংগৃহীত ছবি।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। অতীতে এ জেলায় দলটি কখনও এত আসনে জয় পায়নি। তবে দলীয় বিদ্রোহ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বাকি তিনটি আসনে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ এবং নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, দলীয় বিভাজন না থাকলে ফলাফল আরও অনুকূলে যেতে পারত।

জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য আব্দুস সাত্তারসহ একাধিক নেতা দাবি করেন, সবকটি আসনেই জয়ের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিছু নেতার কারণে তিনটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আতিকুল বাশার রুমিত বলেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত হওয়া জরুরি, না হলে ভবিষ্যতে সংগঠনের ক্ষতি হতে পারে।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জয় পেয়েছে খেলাফত মজলিস এবং ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ২২২ ভোট। দুই বিএনপি প্রার্থীর ভোট একত্র করলে মোট দাঁড়ায় ২ লাখ ১০ হাজার ১৯১, যা বিরোধী প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি করতে পারত।

ময়মনসিংহ-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট এবং বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ার পান ৪৮ হাজার ৮৭৪ ভোট। দুই বিএনপি প্রার্থীর ভোট একত্রে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২, যা বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে বেশি।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট। বিএনপির প্রার্থী আকতারুল আলম ফারুক পান ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট এবং বিদ্রোহী প্রার্থী আখতার সুলতানা পান ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট। এ দুটি ভোট যোগ করলে দাঁড়ায় ১ লাখ ২ হাজার ৩২৫। যদিও এ আসনে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ বলেন, দলীয় বিভাজন পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। কোথায় দুর্বলতা ছিল তা তদন্ত করে সাংগঠনিক প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহে এবারের নির্বাচনে বিএনপির সাফল্য উল্লেখযোগ্য হলেও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় সম্ভাব্য আরও কিছু আসন হাতছাড়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে বিএনপির ৩টি আসন হারানোর নেপথ্যে বিদ্রোহী

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:২৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বাধীনতার পর এই প্রথম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। অতীতে এ জেলায় দলটি কখনও এত আসনে জয় পায়নি। তবে দলীয় বিদ্রোহ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বাকি তিনটি আসনে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে বিএনপির প্রার্থীদের।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ এবং নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, দলীয় বিভাজন না থাকলে ফলাফল আরও অনুকূলে যেতে পারত।

জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য আব্দুস সাত্তারসহ একাধিক নেতা দাবি করেন, সবকটি আসনেই জয়ের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিছু নেতার কারণে তিনটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আতিকুল বাশার রুমিত বলেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত হওয়া জরুরি, না হলে ভবিষ্যতে সংগঠনের ক্ষতি হতে পারে।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জয় পেয়েছে খেলাফত মজলিস এবং ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ২২২ ভোট। দুই বিএনপি প্রার্থীর ভোট একত্র করলে মোট দাঁড়ায় ২ লাখ ১০ হাজার ১৯১, যা বিরোধী প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি করতে পারত।

ময়মনসিংহ-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট এবং বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ার পান ৪৮ হাজার ৮৭৪ ভোট। দুই বিএনপি প্রার্থীর ভোট একত্রে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২, যা বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে বেশি।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট। বিএনপির প্রার্থী আকতারুল আলম ফারুক পান ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট এবং বিদ্রোহী প্রার্থী আখতার সুলতানা পান ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট। এ দুটি ভোট যোগ করলে দাঁড়ায় ১ লাখ ২ হাজার ৩২৫। যদিও এ আসনে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থীও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ বলেন, দলীয় বিভাজন পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। কোথায় দুর্বলতা ছিল তা তদন্ত করে সাংগঠনিক প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়মনসিংহে এবারের নির্বাচনে বিএনপির সাফল্য উল্লেখযোগ্য হলেও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় সম্ভাব্য আরও কিছু আসন হাতছাড়া হয়েছে।