ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই বকশীগঞ্জের আলুচাষিদের মুখে

সংগৃহীত ছবি।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে উৎপাদন আশানুরূপ হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ আলু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচই প্রায় সমান বা তার চেয়েও বেশি পড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই মূলধন ফেরত পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়া জানান, ঋণ নিয়ে আবাদ করলেও বাজারদর কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কৃষক শরিফ মিয়া বলেন, এলাকায় পর্যাপ্ত হিমাগার সুবিধা না থাকায় আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মৌসুমের শুরুতেই কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত সরবরাহের সময় বাজারে দরপতন ঘটে। ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা সীমিত থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। হিমাগার সুবিধা বাড়ানো গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

স্থানীয় কৃষিবিদরা মনে করছেন, কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাবে। তারা বাজার তদারকি জোরদার, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে প্রতিবছরই এমন সংকট দেখা দিতে পারে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই বকশীগঞ্জের আলুচাষিদের মুখে

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে উৎপাদন আশানুরূপ হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ আলু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচই প্রায় সমান বা তার চেয়েও বেশি পড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই মূলধন ফেরত পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়া জানান, ঋণ নিয়ে আবাদ করলেও বাজারদর কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কৃষক শরিফ মিয়া বলেন, এলাকায় পর্যাপ্ত হিমাগার সুবিধা না থাকায় আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মৌসুমের শুরুতেই কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত সরবরাহের সময় বাজারে দরপতন ঘটে। ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা সীমিত থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। হিমাগার সুবিধা বাড়ানো গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

স্থানীয় কৃষিবিদরা মনে করছেন, কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাবে। তারা বাজার তদারকি জোরদার, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে প্রতিবছরই এমন সংকট দেখা দিতে পারে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।