ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বেরোবিতে উপাচার্যের আপ্যায়ন খাতে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের পর নতুন চাহিদা ২০ লাখ ময়মনসিংহে নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বার্সেলোনার হয়ে খেলা একটি স্বপ্ন: রদ্রি চান্দিনায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা, রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত রাকসু ভবনে হামলার ঘটনায় আম্মারের হত্যাচেষ্টা মামলা, আসামি ৫ পতেঙ্গায় সাগরে ডুবে বন্ধুর মৃত্যু, অপহরণের নাটক সাজিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ মিরপুর বিআরটিএতে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ৩ জনের কারাদণ্ড দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে ম্যাকাইয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল ঢাকায় স্কুল ফুটবলের গ্র্যান্ডফাইনালে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি কানিজিয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের তথ্য ভুল, বলল বাংলাদেশ

যশোরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব- আহত ৯, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলসহ বিদ্যুৎব্যবস্থা

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন এবং কৃষি ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাবে, অন্তত ১৫০ বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝড়ে শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। বসতবাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শফির ঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে ভেতরের মালামাল বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়।

ঝড়ে আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে নেংড়ুহাট এলাকার মিরাজ হোসেন (১৪) গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যকুল গ্রামের শিমুল হোসেন (৩০) ও বাজিতপুর গ্রামের রহিমা খাতুন (৫০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আহত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে এবং একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন পর এমন তীব্র ঝড় দেখা গেল। ঝড়ে মাদ্রাসার ছাদের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে, ফলে প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

কেশবপুর পল্লী বিদ্যুতের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে অন্তত সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ৩৫টির বেশি স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। এতে করে একযোগে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। বহু স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকের ক্ষতি বেড়েছে।

কালবৈশাখীর এই আকস্মিক তাণ্ডবে কেশবপুরে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষি, বিদ্যুৎ ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবিতে উপাচার্যের আপ্যায়ন খাতে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের পর নতুন চাহিদা ২০ লাখ

যশোরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব- আহত ৯, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলসহ বিদ্যুৎব্যবস্থা

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন এবং কৃষি ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাবে, অন্তত ১৫০ বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝড়ে শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। বসতবাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শফির ঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে ভেতরের মালামাল বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়।

ঝড়ে আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে নেংড়ুহাট এলাকার মিরাজ হোসেন (১৪) গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যকুল গ্রামের শিমুল হোসেন (৩০) ও বাজিতপুর গ্রামের রহিমা খাতুন (৫০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আহত ৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে এবং একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন পর এমন তীব্র ঝড় দেখা গেল। ঝড়ে মাদ্রাসার ছাদের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে, ফলে প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

কেশবপুর পল্লী বিদ্যুতের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে অন্তত সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ৩৫টির বেশি স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। এতে করে একযোগে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। বহু স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকের ক্ষতি বেড়েছে।

কালবৈশাখীর এই আকস্মিক তাণ্ডবে কেশবপুরে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষি, বিদ্যুৎ ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে।