
‘করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাটোরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা-২০২৬। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের কানাইখালী মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানুষের সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশীয় মৌসুমি ফলে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্য আঁশ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সারা বছর দেশীয় ফল চাষ, সংরক্ষণ ও নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও সম্ভাবনাময় সব জায়গায় ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে ফল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি ফল সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় ফলের উৎপাদনকাল ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত ফলের চারা ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ফল মেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশীয় ফল সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে এবং ফল চাষে আগ্রহী হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য আধুনিক ফলচাষ প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট খন্দকার মাহবুব এবং আদর্শ ফলচাষি আল আমিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) শামসুন্নাহার ভূঁইয়া।
মেলায় ১৪ ধরনের প্রচলিত দেশীয় ফল, ২৩ ধরনের অপ্রচলিত ফল এবং ২৫ জাতের আম ১১টি স্টলে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া নাটোরের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পল্লীর বিভিন্ন ভেষজ পণ্য, ফলদ গাছের চারা এবং কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উপকরণও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, আগামী তিন দিন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 





















