
সরকারের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিবেচনায় ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিস স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন-পুনঃখনন, নারীদের জন্য পিংক বাস সার্ভিস এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার পাওয়া কর্মসূচিগুলোর সঠিক তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব অনেক বেশি। সংবাদমাধ্যমের প্রচারের মধ্য দিয়ে এসব সেবার সুফল সম্পর্কে আরও মানুষ জানতে পারবেন এবং উপকৃত হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক তথ্য অফিস ময়মনসিংহের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাসুদ মিয়া এবং জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক আফসানা ফেরদৌস মিষ্টি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ কাইয়ূমসহ স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মাধ্যমের সাংবাদিকরাও অংশগ্রহণ করেন। তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পর প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকরা নানা বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ দেন।
ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কম সুদে কৃষিঋণ, রেয়াতি মূল্যে সেচ সুবিধা, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ, কৃষি বীমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারদর সংক্রান্ত তথ্য পাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষক হিসেবে তাদের পরিচয়ও স্বীকৃতি পাচ্ছে। এতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি হ্রাসেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে এই উদ্যোগ।
কৃষিঋণ মওকুফের আওতায় শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল ঋণ এবং এর ওপর প্রযোজ্য সুদ মাফের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হচ্ছেন বলে জানানো হয়।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো প্রতি মাসে নগদ সহায়তা পাচ্ছে এবং টিসিবির মাধ্যমে কম দামে নিত্যপণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত এই কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি কার্যকর উদ্যোগ বলে বর্ণনা করা হয়।
খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প পরিবেশ ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে শুকনো মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত হচ্ছে, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা কমছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং মৎস্যচাষ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, নির্মল বায়ু নিশ্চিত করা, মাটি ক্ষয় রোধ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যাপক হারে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া খাদ্য, কাঠ, ওষুধ এবং পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিতেও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারীদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানানো হয় অনুষ্ঠানে। এই প্রস্তাবিত ইলেকট্রিক বাস সার্ভিসে চালক থেকে শুরু করে হেল্পার ও সুপারভাইজার পর্যন্ত সব পদে নারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন। এতে একদিকে নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
প্রেস ব্রিফিং শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা মন্তব্য করেন, সরকারি কর্মসূচির প্রকৃত তথ্য ও সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া দরকার। কেননা সঠিক তথ্যই মানুষকে সরকারি সেবা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পারে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 

















