
রাজশাহী মহানগরীতে চুরির সন্দেহে আটক চার যুবককে একটি রাজনৈতিক নেতার চেম্বারে নিয়ে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে রাজশাহী মহানগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিমানচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে নির্যাতনের শিকার চার যুবককে শাহমখদুম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিমানচত্বর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে সিগারেট ও কিছু নগদ অর্থ চুরির অভিযোগে আব্দুস সামাদ, দেবসহ চার যুবককে স্থানীয় কয়েকজন আটক করেন। পরে তাদের মহানগর যুবদলের সদস্য এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাকিলুর রহমান রনের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মারধর করেন এবং মাথার চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে কয়েকজনকে চার যুবকের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত শাকিলুর রহমান রনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব বেলাল হোসেন বলেন,”যাদের আটক করা হয়েছিল, তারা এলাকায় চুরির অভিযোগে পরিচিত। তবে কাউকে মারধর করা কিংবা মাথার চুল কেটে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন,”স্থানীয়রা চুরির অভিযোগে চারজনকে থানায় সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকে মারধর করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন বা অপদস্থ করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই একমাত্র বৈধ পথ।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সৈয়দ মাসুদ রাজশাহী 
















