
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের দুঃসাহসিক হামলার ঘটনায় ১৯টি মহিষবোঝাই একটি ট্রাক লুট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ট্রাকের চালক, হেলপারসহ চারজনকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ লাগিয়ে জিম্মি করার পর মহিষবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর ও মাইপাড়া বাজারের মধ্যবর্তী ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের একটি নির্জন অংশে। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগীরা পুঠিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলের সাতজন ব্যবসায়ী যৌথভাবে সিলেট থেকে ১৯টি মহিষ কিনে একটি ট্রাকে করে রাজশাহী সিটি হাটে নিয়ে আসছিলেন। ট্রাকটি তারাপুর বাজার অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর একটি ড্রাম ট্রাক সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে পথরোধ করা হয়।
এরপর ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ট্রাকে উঠে চালক, হেলপার ও সঙ্গে থাকা অন্যদের ওপর হামলা চালায়। তাদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ লাগিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে তাদের অন্য একটি যানবাহনে তুলে নিয়ে সিরাজগঞ্জের কাচিকাটা টোলপ্লাজার আগে একটি পাটক্ষেতে ফেলে রেখে ১৯টি মহিষসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ডাকাতির শিকার ট্রাকচালক রিয়াজউদ্দিন বলেন,
“তারাপুর বাজার পার হওয়ার পর একটি ড্রাম ট্রাক আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর কয়েকজন এসে আমাদের মারধর করে। মুখে টেপ লাগিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। পরে কাচিকাটা এলাকার একটি পাটক্ষেতে ফেলে রেখে ট্রাক নিয়ে চলে যায়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কে গবাদিপশুবাহী যানবাহনকে লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রাকের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা পুঠিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন,”ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ১৯টি মহিষসহ একটি ট্রাক লুণ্ঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি লুট হওয়া ট্রাক ও মহিষ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য রুটগুলো পর্যবেক্ষণ করে ডাকাত দলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে এমন ঘটনার পর ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়ের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়রা।
ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায় লুট হওয়া ট্রাক, ১৯টি মহিষ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধারের পর আরও তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সৈয়দ মাসুদ রাজশাহী 
















