
সারা দেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জেও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলার ২৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা, প্রশাসনিক তদারকি এবং শিক্ষা বিভাগের নিবিড় নজরদারির মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন একটি ব্যতিক্রমী ঘটনাও সামনে আসে—মামলাজনিত কারণে ভোলাহাট কেন্দ্রের একজন পরীক্ষার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখা সূত্রে জানা যায়, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৩৮৮ জন। তাদের জন্য জেলায় এইচ.এস.সি ১৫ টি, আলিম-৫ টি, কারিগরি ৪টিসহ মোট- ২৪টি পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ৭ হাজার ৮৫২ জন। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৭ হাজার ৬৫৪ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ১৯৮ জন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থী ৯৩৭ জন। কুরআন মাজিদ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৮৪৬ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ৯১ জন।
এছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ৮৯৯ জন। বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৮৭৫ জন, অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ জন।
জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহীন সুলতানা জানান, বিচারাধীন একটি মামলার কারণে ভোলাহাট কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থী আদালতের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তার জন্য কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা, প্রশ্নফাঁস বা অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, উচ্চশিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। তাই সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিটি কেন্দ্রে ভিজিল্যান্স টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত একইভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 
















