ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
শিবগঞ্জে নির্যাতিত ও দুঃস্থ নারী-শিশুদের মাঝে বিশেষ অনুদান বিতরণ শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপসহ যুবক আটক ময়মনসিংহ আউটার স্টেডিয়াম শহর প্রতিরক্ষা দলের সভাপতি খসরু, সম্পাদক টিটু লক্ষ্মীপুরে জমি বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ দিয়ে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ ত্রিশালকে ২-১ গোলে হারিয়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের শিরোপা ধরে রাখল ঈশ্বরগঞ্জ বাগাতিপাড়ায় কেক কেটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন নলডাঙ্গার বারনই নদীতে ভেসে উঠছে শত শত মাছ, বিষক্রিয়া নাকি গ্যাস? যে ৩ অপরাধের পরিণতি হবে ভয়াবহ: কী বলছে হাদিস নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য রেখা বেগম ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ

যে ৩ অপরাধের পরিণতি হবে ভয়াবহ: কী বলছে হাদিস

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০২:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৫১ Time View

হাদিসের আলোকে জেনে নিন যে তিনটি অপরাধের পরিণতি ভয়াবহ। সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী (সা.) তিনটি গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি স্বপ্নে না দেখেও মিথ্যা স্বপ্নের কথা রটায়, কিয়ামতের দিন তাকে দুটি যবের দানা একসঙ্গে জোড়া লাগানোর কঠিন কাজে বাধ্য করা হবে, অথচ সে কিছুতেই তা করতে সক্ষম হবে না।

এ ছাড়া যে ব্যক্তি কোনো গোত্র বা সম্প্রদায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও গোপনে আড়ি পেতে তাদের কথোপকথন শোনে, কিয়ামতের দিন তার কর্ণকুহরে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি কোনো জীব-জন্তুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করে, পরকালে তাকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাকে বাধ্য করা হবে সেই ছবিতে প্রাণ সঞ্চার করার জন্য, কিন্তু সে কখনোই তা করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭০৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১০৫৪৯)

হাদিসটি থেকে পাওয়া শিক্ষা ও বিধান:

১. মিথ্যা স্বপ্নের বর্ণনা মারাত্মক অপরাধ: কেউ স্বপ্নে না দেখা কোনো ঘটনাকে দেখেছে বলে প্রচার করা সরাসরি মিথ্যাচারের শামিল। এ কারণেই হাদিসে কিয়ামতের দিনের কঠোর শাস্তির উল্লেখ এসেছে। তাই স্বপ্ন বর্ণনার ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা অপরিহার্য।

২. সব কথা বলার অনুমতি নেই: নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বা মানুষকে খুশি করতে বানোয়াট গল্প, কাল্পনিক ঘটনা বা মিথ্যা কাহিনি ছড়ানো থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

৩. অন্যের গোপন আলোচনায় আড়ি পাতা নিষিদ্ধ: কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী না চাইলেও তাদের ব্যক্তিগত কথোপকথন গোপনে শোনা ইসলামে গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত। এটি অন্যের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

৪. ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি: ইসলাম প্রত্যেক মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত জীবন ও গোপনীয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। কারও অনুমতি ব্যতীত তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অনুসন্ধান বা তা শোনা অনুচিত।

৫. প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে: কিয়ামতের কঠিন শাস্তির বর্ণনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, দুনিয়ায় সামান্য মনে হলেও কোনো গুনাহই আল্লাহর কাছে ছোট নয়। প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের জবাবদিহি করতে হবে।

৬. চিত্রাঙ্কনের বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা: হাদিসে প্রাণীর ছবি আঁকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা রয়েছে। বিশেষত জীবজন্তুর পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি, চিত্র ও ভাস্কর্য তৈরির ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান জেনে চলা কর্তব্য।

৭. আনন্দের ছলেও নিষিদ্ধ কাজ বৈধ হয় না: নিছক মজা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা, অন্যের গোপন কথা শোনা কিংবা নিষিদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া—কোনোভাবেই বৈধতা পায় না। একজন মুমিনের প্রতিটি বিনোদনও শরিয়তের সীমারেখার মধ্যেই হওয়া উচিত।

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট শিক্ষা পাওয়া যায়—যা নিজে দেখেনি তা প্রচার করা যাবে না, যা শোনার অধিকার নেই তা গোপনে শোনা যাবে না, এবং শরিয়তে নিষিদ্ধ যেকোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ক্ষণস্থায়ী কৌতূহল বা সামান্য আনন্দের বিনিময়ে আখিরাতের কঠিন শাস্তি ডেকে আনা কোনো বিবেকবান মুমিনের কাজ হতে পারে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবগঞ্জে নির্যাতিত ও দুঃস্থ নারী-শিশুদের মাঝে বিশেষ অনুদান বিতরণ

যে ৩ অপরাধের পরিণতি হবে ভয়াবহ: কী বলছে হাদিস

প্রকাশের সময়ঃ ০২:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী (সা.) তিনটি গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি স্বপ্নে না দেখেও মিথ্যা স্বপ্নের কথা রটায়, কিয়ামতের দিন তাকে দুটি যবের দানা একসঙ্গে জোড়া লাগানোর কঠিন কাজে বাধ্য করা হবে, অথচ সে কিছুতেই তা করতে সক্ষম হবে না।

এ ছাড়া যে ব্যক্তি কোনো গোত্র বা সম্প্রদায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও গোপনে আড়ি পেতে তাদের কথোপকথন শোনে, কিয়ামতের দিন তার কর্ণকুহরে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি কোনো জীব-জন্তুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করে, পরকালে তাকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাকে বাধ্য করা হবে সেই ছবিতে প্রাণ সঞ্চার করার জন্য, কিন্তু সে কখনোই তা করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭০৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১০৫৪৯)

হাদিসটি থেকে পাওয়া শিক্ষা ও বিধান:

১. মিথ্যা স্বপ্নের বর্ণনা মারাত্মক অপরাধ: কেউ স্বপ্নে না দেখা কোনো ঘটনাকে দেখেছে বলে প্রচার করা সরাসরি মিথ্যাচারের শামিল। এ কারণেই হাদিসে কিয়ামতের দিনের কঠোর শাস্তির উল্লেখ এসেছে। তাই স্বপ্ন বর্ণনার ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা অপরিহার্য।

২. সব কথা বলার অনুমতি নেই: নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বা মানুষকে খুশি করতে বানোয়াট গল্প, কাল্পনিক ঘটনা বা মিথ্যা কাহিনি ছড়ানো থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

৩. অন্যের গোপন আলোচনায় আড়ি পাতা নিষিদ্ধ: কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী না চাইলেও তাদের ব্যক্তিগত কথোপকথন গোপনে শোনা ইসলামে গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত। এটি অন্যের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।

৪. ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি: ইসলাম প্রত্যেক মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত জীবন ও গোপনীয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। কারও অনুমতি ব্যতীত তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অনুসন্ধান বা তা শোনা অনুচিত।

৫. প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে: কিয়ামতের কঠিন শাস্তির বর্ণনার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, দুনিয়ায় সামান্য মনে হলেও কোনো গুনাহই আল্লাহর কাছে ছোট নয়। প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের জবাবদিহি করতে হবে।

৬. চিত্রাঙ্কনের বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা: হাদিসে প্রাণীর ছবি আঁকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা রয়েছে। বিশেষত জীবজন্তুর পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি, চিত্র ও ভাস্কর্য তৈরির ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান জেনে চলা কর্তব্য।

৭. আনন্দের ছলেও নিষিদ্ধ কাজ বৈধ হয় না: নিছক মজা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা, অন্যের গোপন কথা শোনা কিংবা নিষিদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া—কোনোভাবেই বৈধতা পায় না। একজন মুমিনের প্রতিটি বিনোদনও শরিয়তের সীমারেখার মধ্যেই হওয়া উচিত।

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট শিক্ষা পাওয়া যায়—যা নিজে দেখেনি তা প্রচার করা যাবে না, যা শোনার অধিকার নেই তা গোপনে শোনা যাবে না, এবং শরিয়তে নিষিদ্ধ যেকোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ক্ষণস্থায়ী কৌতূহল বা সামান্য আনন্দের বিনিময়ে আখিরাতের কঠিন শাস্তি ডেকে আনা কোনো বিবেকবান মুমিনের কাজ হতে পারে না।