ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়া কেন? ইসলাম কী বলে, করণীয় কী

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৮ Time View

ঘুমের মধ্যে ভয় বা দুঃস্বপ্ন দেখলে ইসলামী দৃষ্টিতে কিছু করণীয় রয়েছে

ঘুম মানুষের শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ইসলামী দৃষ্টিতেও ঘুমকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক সময় ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে বা অস্বস্তিকর কোনো অনুভূতিতে মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, সে বিষয়ে হাদিসে কিছু নির্দেশনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী এবং রাতকে করেছি আবরণ।’ (সুরা আন-নাবা, আয়াত ৯-১০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর সময় একটি দোয়া পড়তেন। হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং আপনার নামেই জীবিত হই।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩২৪; সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৪১৭)

দুঃস্বপ্ন দেখলে কী করবেন?

হাদিসে ভালো স্বপ্নকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং দুঃস্বপ্নকে শয়তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাই ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে জেগে উঠলে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং বাম দিকে তিনবার হালকা থুতু ফেলে। এতে ওই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
(সহিহ বুখারি)

এ ছাড়া এমন স্বপ্ন অন্যদের কাছে প্রচার না করার ব্যাপারেও হাদিসে নির্দেশনা পাওয়া যায়। ভালো স্বপ্ন হলে তা প্রিয় বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে বলা যেতে পারে; কিন্তু খারাপ স্বপ্ন নিয়ে অযথা আলোচনা না করাই উত্তম।

ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

হাদিসে ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়ার সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়ার কথাও এসেছে—

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

উচ্চারণ:
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইকাবিহি, ওয়া শাররি ইবাদিহি, ওয়ামিন হামাযাতিশ শায়াতিনি ওয়া আন ইয়াহদুরুন।

অর্থ:
আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ, শাস্তি, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ও উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সুনান আত-তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের এই দোয়া শেখাতেন।

বারবার ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে

এক-দুবার দুঃস্বপ্ন দেখা সাধারণ বিষয় হতে পারে। তবে নিয়মিতভাবে ঘুমের মধ্যে আতঙ্ক, ঘুম ভেঙে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের অনুভূতি বা অতিরিক্ত অস্থিরতা হলে বিষয়টি শুধু স্বপ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এমন সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ইসলামী দৃষ্টিতে দুঃস্বপ্নে ভয় পেলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, বাম দিকে তিনবার হালকা থুতু ফেলা এবং বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়াই হাদিসসম্মত করণীয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়া কেন? ইসলাম কী বলে, করণীয় কী

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ঘুম মানুষের শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ইসলামী দৃষ্টিতেও ঘুমকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক সময় ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে বা অস্বস্তিকর কোনো অনুভূতিতে মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, সে বিষয়ে হাদিসে কিছু নির্দেশনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী এবং রাতকে করেছি আবরণ।’ (সুরা আন-নাবা, আয়াত ৯-১০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর সময় একটি দোয়া পড়তেন। হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, দোয়াটি হলো—

اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং আপনার নামেই জীবিত হই।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩২৪; সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৪১৭)

দুঃস্বপ্ন দেখলে কী করবেন?

হাদিসে ভালো স্বপ্নকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং দুঃস্বপ্নকে শয়তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাই ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে জেগে উঠলে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং বাম দিকে তিনবার হালকা থুতু ফেলে। এতে ওই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
(সহিহ বুখারি)

এ ছাড়া এমন স্বপ্ন অন্যদের কাছে প্রচার না করার ব্যাপারেও হাদিসে নির্দেশনা পাওয়া যায়। ভালো স্বপ্ন হলে তা প্রিয় বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে বলা যেতে পারে; কিন্তু খারাপ স্বপ্ন নিয়ে অযথা আলোচনা না করাই উত্তম।

ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

হাদিসে ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়ার সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়ার কথাও এসেছে—

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

উচ্চারণ:
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইকাবিহি, ওয়া শাররি ইবাদিহি, ওয়ামিন হামাযাতিশ শায়াতিনি ওয়া আন ইয়াহদুরুন।

অর্থ:
আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ, শাস্তি, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ও উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সুনান আত-তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের এই দোয়া শেখাতেন।

বারবার ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে

এক-দুবার দুঃস্বপ্ন দেখা সাধারণ বিষয় হতে পারে। তবে নিয়মিতভাবে ঘুমের মধ্যে আতঙ্ক, ঘুম ভেঙে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের অনুভূতি বা অতিরিক্ত অস্থিরতা হলে বিষয়টি শুধু স্বপ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এমন সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ইসলামী দৃষ্টিতে দুঃস্বপ্নে ভয় পেলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, বাম দিকে তিনবার হালকা থুতু ফেলা এবং বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়াই হাদিসসম্মত করণীয়।