ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে আবারও ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান হতে পারে-ইবি উপাচার্য সিঙ্গেল মায়েদের স্বাবলম্বিতা ও বিহারী শিশুদের শিক্ষায় অনন্য সামাজিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের রাজপথের সংঘাতের প্রভাব শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না মায়ের উদ্দেশে শেষ চিঠি লিখেই আন্দোলনে যান আনাস জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর: ছয় মামলার রায় মালয়েশিয়ায় তিন বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী বাংলাদেশি গ্রেপ্তার ‘ছাত্রদলের মাস্তানি সহ্য করা হবে না’-সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি নূরুল কলেজে এমপির স্ত্রীর সভাপতি নিয়োগ ৩ মাসের জন্য স্থগিত, হাইকোর্টের রুল

নাটোরে মদনমোহন মন্দিরে ১৫৫ বছরের প্রাচীন পিতলের রথযাত্রা উদযাপন

নাটোরের মাধনগরে ১৫৫ বছরের পুরনো পিতলের রথ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন হাজারো পুণ্যার্থী

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগরে অবস্থিত মদনমোহন মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের পিতলের রথযাত্রা যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নানা মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মাধনগরের মদনমোহন মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে ১৫৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পিতলের রথ রশি টেনে যাত্রা শুরু করা হয়। এই ধর্মীয় আয়োজনে আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্যি আর নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ভক্তরা রথ টেনে নিয়ে যান।

১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মাধনগর মদনমোহন মন্দির থেকে এ রথযাত্রার শুভ সূচনা হয়। নেচে-গেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা ১৫৫ বছরের পুরোনো এই পিতলের রথের রশি টেনে নেন। নয় দিন পর আগামী ২৪ জুলাই একই স্থান থেকে উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে ফিরবেন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব। বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা জানান, মঙ্গল, মুক্তি ও শান্তি-সমৃদ্ধির বার্তাবাহী এই যাত্রা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পিন্টু অধিকারী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও এই যাত্রা মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও জানান, ১৮৫৫ বছরের পুরোনো এই পিতলের রথটি ১২ ফুট স্কয়ার আকৃতির এবং ২৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট। রথে রয়েছে ১২টি চাকা, যার ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে পিতলের ১২টি পাত, ১২টি কোণ এবং ১১২টি পিলার। মাধনগরের এই প্রাচীন রথটিকে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম রথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মদনমোহনের মাহাত্ম্যে মুগ্ধ হয়ে পাবনার দিলালার জমিদার যামিনী সুন্দরী বসাক ১৮৬৭ সালে এই রথ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উল্লেখ্য, এই রথের নামে প্রায় শতাধিক বিঘা দেবোত্তর সম্পত্তি থাকলেও কালক্রমে সেসব জমি বিক্রি ও হাতবদল হয়ে বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বেদখল হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

নাটোরে মদনমোহন মন্দিরে ১৫৫ বছরের প্রাচীন পিতলের রথযাত্রা উদযাপন

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৩৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগরে অবস্থিত মদনমোহন মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের পিতলের রথযাত্রা যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নানা মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মাধনগরের মদনমোহন মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে ১৫৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পিতলের রথ রশি টেনে যাত্রা শুরু করা হয়। এই ধর্মীয় আয়োজনে আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্যি আর নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ভক্তরা রথ টেনে নিয়ে যান।

১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মাধনগর মদনমোহন মন্দির থেকে এ রথযাত্রার শুভ সূচনা হয়। নেচে-গেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা ১৫৫ বছরের পুরোনো এই পিতলের রথের রশি টেনে নেন। নয় দিন পর আগামী ২৪ জুলাই একই স্থান থেকে উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে ফিরবেন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব। বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা জানান, মঙ্গল, মুক্তি ও শান্তি-সমৃদ্ধির বার্তাবাহী এই যাত্রা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পিন্টু অধিকারী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও এই যাত্রা মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও জানান, ১৮৫৫ বছরের পুরোনো এই পিতলের রথটি ১২ ফুট স্কয়ার আকৃতির এবং ২৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট। রথে রয়েছে ১২টি চাকা, যার ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে পিতলের ১২টি পাত, ১২টি কোণ এবং ১১২টি পিলার। মাধনগরের এই প্রাচীন রথটিকে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম রথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মদনমোহনের মাহাত্ম্যে মুগ্ধ হয়ে পাবনার দিলালার জমিদার যামিনী সুন্দরী বসাক ১৮৬৭ সালে এই রথ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উল্লেখ্য, এই রথের নামে প্রায় শতাধিক বিঘা দেবোত্তর সম্পত্তি থাকলেও কালক্রমে সেসব জমি বিক্রি ও হাতবদল হয়ে বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বেদখল হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।