
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত দুই ভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)-এর একদল শিক্ষার্থী। তাদের এই উদ্যোগের নাম ‘কিয়ৎ’, যার মাধ্যমে একদিকে সংগ্রামী সিঙ্গেল মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিহারী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও আগ্রহ বৃদ্ধিতে পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন কার্যক্রম।
উদ্যোগটির আওতায় সিঙ্গেল মায়েদের হাতে তৈরি হ্যান্ড এমব্রয়ডারির পোশাক, চুড়িসহ বিভিন্ন হস্তশিল্পের পণ্য বাজারজাত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে তারা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সম্মানজনক আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
শুধু অর্থনৈতিক সহায়তাই নয়, ‘কিয়ৎ’-এর বিক্রয় থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ ব্যয় করা হচ্ছে রংপুরের রবার্টসনগঞ্জ এলাকার বিহারী শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, সমাজে টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে একজন মায়ের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং একটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ—দুই বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘কিয়ৎ’ শুধুমাত্র একটি সামাজিক উদ্যোগ নয়; এটি দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎকে একই সুতোয় যুক্ত করার একটি মানবিক প্রচেষ্টা।
তারা আরও জানান, ছোট ছোট ইতিবাচক উদ্যোগই একসময় বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে। সেই লক্ষ্য নিয়েই মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা এবং আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে বেরোবির শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘কিয়ৎ’।
জুবায়ের আল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি: 























