
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের ওই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মোট ৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে বহুল আলোচিত শহীদ ওয়াসিম, মীর মুগ্ধ, গোলাম নাফিজ ও আসহাবুল ইয়ামিন হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার এখনো শুরু হয়নি। একই সঙ্গে বহু অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার, আহত আন্দোলনকারী এবং বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দুইটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাতটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এসব মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ মোট ৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়ে যুক্তিতর্ক চলছে।
যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তা ইমাম হোসেন তায়িম হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে শহীদ ওয়াসিম ও শহীদ মীর মুগ্ধ হত্যা মামলা বর্তমানে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ৪৬টি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাওয়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৯টি তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে যেসব মামলার রায় হয়েছে, সেগুলো স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আগামী মাসে আরও তিনটি মামলার রায় হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ের গুম ও নির্যাতনের কয়েকটি মামলার বিচারও চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে তদন্তাধীন মামলাগুলোর বিচার শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রসিকিউশন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় বিচারযোগ্য, সেগুলোর বিচার এখানেই হবে। আর যেসব মামলা নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি উপযুক্ত, সেগুলো সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংস ঘটনার বিচার পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ এবং পরবর্তীতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়।
এ পর্যন্ত দুই ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মোট ৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত ৬১ জনের মধ্যে ৪০ জন পলাতক এবং ২১ জন কারাগারে রয়েছেন।
অধিকার ডেস্ক: 






















