ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
দেশের সব বেসরকারি মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনের নির্দেশ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চালু হলো নতুন মেডিকেল সেন্টার মাগুরায় নিজ বাসা থেকে মোটর শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার ৭ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা চাঁপাইনবাবগঞ্জে লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আড়াই মাস পর ৭ কারাবন্দীর জামিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন (কলাপট্টি) সড়কের নির্মাণকাজ শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গোমস্তাপুরে বিএনপির প্রস্তুতি জোরদার, কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে স্কুটিসহ ৫০০পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পরকালে যে ৭ শ্রেণির মানুষের প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন না আল্লাহ

কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে যেসব শ্রেণির মানুষ, জানাচ্ছে ইসলামি শিক্ষা

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা মহান আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে। কোরআন ও হাদিসের একাধিক বর্ণনা অনুযায়ী, এই শ্রেণির মানুষদের প্রতি আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি। নিচে এমন সাত শ্রেণির মানুষের বিবরণ তুলে ধরা হলো।

১. অঙ্গীকার ও শপথ ভঙ্গকারী
যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে দেয়, পবিত্র কোরআনে তাদের সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। সুরা আলে ইমরানে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তিরা আখিরাতে কোনো অংশ পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না বা তাদের দিকে তাকাবেন না।

২. দান করে খোঁটা দানকারী ব্যক্তি
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেবেন না। এদের মধ্যে রয়েছে টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রয়কারী এবং কাউকে দান করার পর তা নিয়ে খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি।

৩. অহংকারবশত পোশাক দীর্ঘ করা ব্যক্তি
হাদিসে এসেছে, অহংকারবশত যে ব্যক্তি নিজের পোশাক দীর্ঘায়িত ও প্রদর্শন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

৪. বৃদ্ধ বয়সে অন্যায় কাজে লিপ্ত, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র
হাদিস অনুযায়ী, এই তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এই তিন শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে এমন আচরণে জড়ানোর তেমন বাস্তব প্রয়োজনীয়তা থাকে না বলেই তাদের ব্যাপারে বিশেষভাবে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

৫. নামাজে রুকু-সিজদার মাঝে মেরুদণ্ড সোজা না করা ব্যক্তি
হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নামাজের রুকু ও সিজদার মাঝে সঠিকভাবে দাঁড়ায় না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

৬. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান ও পারিবারিক দায়িত্বে অবহেলাকারী
হাদিস অনুযায়ী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং পারিবারিক সম্মান রক্ষায় উদাসীন ব্যক্তিরাও কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে। ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, পিতা-মাতার অধিকারকে আল্লাহ নিজের অধিকারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা বনি ইসরাইলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ না করে সম্মানজনক ব্যবহার করতে হবে। হাদিসে আরও এসেছে, পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত।

৭. অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তি
হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে, অস্বাভাবিক ও অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রতিও কিয়ামতের দিন আল্লাহ দৃষ্টিপাত করবেন না।

ইসলামি স্কলারদের মতে, এসব হাদিস মানুষকে সচেতন করার জন্য এসেছে, যাতে বিশ্বাসীরা নিজেদের আচরণ ও চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বেসরকারি মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল

পরকালে যে ৭ শ্রেণির মানুষের প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন না আল্লাহ

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা মহান আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে। কোরআন ও হাদিসের একাধিক বর্ণনা অনুযায়ী, এই শ্রেণির মানুষদের প্রতি আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি। নিচে এমন সাত শ্রেণির মানুষের বিবরণ তুলে ধরা হলো।

১. অঙ্গীকার ও শপথ ভঙ্গকারী
যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে দেয়, পবিত্র কোরআনে তাদের সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। সুরা আলে ইমরানে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তিরা আখিরাতে কোনো অংশ পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না বা তাদের দিকে তাকাবেন না।

২. দান করে খোঁটা দানকারী ব্যক্তি
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেবেন না। এদের মধ্যে রয়েছে টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রয়কারী এবং কাউকে দান করার পর তা নিয়ে খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি।

৩. অহংকারবশত পোশাক দীর্ঘ করা ব্যক্তি
হাদিসে এসেছে, অহংকারবশত যে ব্যক্তি নিজের পোশাক দীর্ঘায়িত ও প্রদর্শন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

৪. বৃদ্ধ বয়সে অন্যায় কাজে লিপ্ত, মিথ্যাবাদী শাসক ও অহংকারী দরিদ্র
হাদিস অনুযায়ী, এই তিন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এই তিন শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে এমন আচরণে জড়ানোর তেমন বাস্তব প্রয়োজনীয়তা থাকে না বলেই তাদের ব্যাপারে বিশেষভাবে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

৫. নামাজে রুকু-সিজদার মাঝে মেরুদণ্ড সোজা না করা ব্যক্তি
হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নামাজের রুকু ও সিজদার মাঝে সঠিকভাবে দাঁড়ায় না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

৬. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান ও পারিবারিক দায়িত্বে অবহেলাকারী
হাদিস অনুযায়ী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং পারিবারিক সম্মান রক্ষায় উদাসীন ব্যক্তিরাও কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত থাকবে। ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, পিতা-মাতার অধিকারকে আল্লাহ নিজের অধিকারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা বনি ইসরাইলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ না করে সম্মানজনক ব্যবহার করতে হবে। হাদিসে আরও এসেছে, পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত।

৭. অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তি
হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে, অস্বাভাবিক ও অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রতিও কিয়ামতের দিন আল্লাহ দৃষ্টিপাত করবেন না।

ইসলামি স্কলারদের মতে, এসব হাদিস মানুষকে সচেতন করার জন্য এসেছে, যাতে বিশ্বাসীরা নিজেদের আচরণ ও চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হন।