
যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় গত বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য জানান, অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনার পর সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি এবং একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অধিকতর তদন্তের জন্য একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়।
রেজিস্ট্রারের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চতর তদন্ত কমিটিতে অধ্যাপক প্রভাষ কুমারের একজন প্রতিনিধি দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে তিনি প্রতিনিধি মনোনয়ন দেননি। যদিও বিভিন্ন সময়ে তিনি লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। পরে উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার। তিনি দাবি করেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি একতরফা এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
অধ্যাপক প্রভাষ কুমার বলেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে নিজের প্রতিনিধি দেওয়ার বিষয়ে তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পাননি বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, একতরফাভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাষ কুমারের বিরুদ্ধে তার বিভাগের এক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষার্থী ক্লাসের উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে অধ্যাপকের চেম্বারে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও সাজেশন নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি অধ্যাপক তাকে প্রশ্নসংক্রান্ত কিছু তথ্য দেখান। পরে তিনি ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার বিচার চেয়ে ওই শিক্ষার্থীর মা গত বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আরও তদন্ত করা হয়। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিক্ষোভের পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিল।
রাজশাহী প্রতিনিধি 






















