
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
শনিবার দেশটির পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের এনদে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। মূল ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় প্রায় ৩৪১টি পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী বেঞ্জামিন পলুস অক্টাভিয়ানুস জানান, ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৬ জনের অবস্থা গুরুতর।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (বিএনপিবি) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুহারিয়ান্তোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ১৫৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আরও প্রায় ২০০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অন্তত ২০টি পেট্রোল পাম্প কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। সিক্কা রেজিমেন্ট এলাকায় তিন হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে স্পোর্টস অ্যারেনায় আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে খোলা জায়গায় তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি নাগেকেও রেজিমেন্টের প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে নাগেকেওসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে তিন হাজার ৫০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছাতে তিনটি হেলিকপ্টার এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়েছে।
কলম্বিয়াতেও শক্তিশালী ভূমিকম্প
এদিকে গত সপ্তাহে পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে প্রায় চার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং এখনও ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
কালি ও পেরেইরা শহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণ করেছে কলম্বিয়া সরকার।
ভানুয়াতুতেও ভূমিকম্প
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে রোববার ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৫৫ কিলোমিটারের বেশি।
তবে এখন পর্যন্ত ভানুয়াতুতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
অধিকার ডেস্কঃ 






















