ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

ইউরোপগামী নৌকায় মৃত্যু মিছিল: লিবিয়া থেকে যাত্রায় ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ জনের প্রাণহানি

শুক্রবার ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জন জীবিতকে উদ্ধার করে।

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে গ্রিসের কোস্টগার্ড।

জানা গেছে, একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে যাত্রা শুরু করা এসব অভিবাসী টানা ছয় দিন সাগরে ভেসে ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জন জীবিতকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া তাদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। আহত দুজনকে ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মুজিবুর রহমান (৪৫), তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)।

গ্রিস কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং যাত্রীরা দীর্ঘ সময় খাবার ও পানীয় ছাড়াই সাগরে ভাসতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটির সন্ধান পাওয়া যায়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানবপাচার এবং অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যে জানা গেছে, ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত সমুদ্রপথে গ্রিসে পৌঁছেছেন ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসী। এ বিপজ্জনক রুটে মানবপাচারকারীরা প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই নৌযান চালায়, যা এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, জীবিকার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

ইউরোপগামী নৌকায় মৃত্যু মিছিল: লিবিয়া থেকে যাত্রায় ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ জনের প্রাণহানি

প্রকাশের সময়ঃ ১০:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিস উপকূলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে গ্রিসের কোস্টগার্ড।

জানা গেছে, একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে যাত্রা শুরু করা এসব অভিবাসী টানা ছয় দিন সাগরে ভেসে ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জন জীবিতকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া তাদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। আহত দুজনকে ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মুজিবুর রহমান (৪৫), তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)।

গ্রিস কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং যাত্রীরা দীর্ঘ সময় খাবার ও পানীয় ছাড়াই সাগরে ভাসতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটির সন্ধান পাওয়া যায়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানবপাচার এবং অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যে জানা গেছে, ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত সমুদ্রপথে গ্রিসে পৌঁছেছেন ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসী। এ বিপজ্জনক রুটে মানবপাচারকারীরা প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই নৌযান চালায়, যা এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হলো, জীবিকার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ কতটা ভয়ংকর হতে পারে।