
রাজধানীর বনানীতে সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় তিন শতাধিক স্থাবর সম্পদের দলিল, ব্যাংকের চেকবই, এফডিআরের নথি, নগদ টাকা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। অভিযান শেষে কার্যালয়টি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে একটি দল গত কয়েকদিন ধরে বনানীর ইকবাল সেন্টারের ১৬ তলায় অবস্থিত এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে কয়েকশ ব্যাংক চেকবই, মেয়াদি আমানত বা এফডিআর-সংক্রান্ত নথি, প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ এবং সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সম্পদের দলিলের তালিকা প্রায় ৩৭ পৃষ্ঠার বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে একটি ম্যাকবুক, কয়েকটি মোবাইল ফোন, একটি নেক্সাস ট্যাব ও একটি আইপ্যাড রয়েছে। অভিযানে পাওয়া নথি ও অন্যান্য সামগ্রীর তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
দুদক সূত্র আরও জানায়, জব্দ করা নথি ও সামগ্রী শিগগির আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সংরক্ষণ করা হবে।
প্রিমিয়ার গ্রুপের তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ
এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রিমিয়ার গ্রুপের তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে অনুসন্ধান দলের সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ করা কর্মকর্তারা হলেন প্রিমিয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোস্তফা তালুকদার, জিএম নাজমুল ইসলাম এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মিজানুর রহমান। বেলা সাড়ে ৩টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট চিঠির মাধ্যমে ওই তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যের সম্পদ বেআইনিভাবে দখল এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি।
দুদকের অনুসন্ধান সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দেশে হোটেল, রিসোর্টসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশেও সম্পদ থাকার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এসব সম্পদের সঙ্গে তার জ্ঞাত আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দুদক।
এর আগে ৬৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ১২ অক্টোবর এইচ বি এম ইকবাল ও তার ছেলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। তার স্ত্রী ও আরেক সন্তানের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া গত বছরের ২৫ নভেম্বর এইচ বি এম ইকবালসহ ২০ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।
দুদকের অভিযান ও অনুসন্ধানের বিষয়গুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অধিকার ডেস্কঃ 
























