
ময়মনসিংহে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়া মিরান (২০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর ওরফে ফকির (৩১)-কে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কুষ্টিয়া ইউনিয়নের নামাপাড়া বিদ্যাগঞ্জ খেয়াঘাটের কাছাকাছি ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সেটি মিরানের মরদেহ বলে শনাক্ত হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা মামলা নং-১৭ হিসেবে নথিভুক্ত হয় এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ আগস্ট রাতে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানাধীন বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কুতুবেরচর এলাকা থেকে হাফিজুর ওরফে ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজুর হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং অপর সন্দেহভাজন হিসেবে তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের চেষ্টায় জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ থানার নদীতীরবর্তী দুর্গম এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গত ২৮ জুলাই রাতে মিরানকে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজুর স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতার হাফিজুর জামালপুরের কুতুবেরচর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শফিয়েল আলম সুমন ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 






















