ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
আটঘরিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল পেট্রল পাম্প ও ওষুধের দোকান কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা, ভিডিও ভাইরাল সারা বছর ধরেই চলবে মৃত ভোটার কর্তন কার্যক্রম-পরিকল্পনা ইসির মামলা তদন্তাধীন থাকলেও বেবিচকের ২ কর্মকর্তাকে দুদকের ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ ইবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, তদন্তে গঠন করা হলো চার সদস্যের উপ-কমিটি চরাঞ্চলের ইউনিয়ন নিয়ে ‘দিয়াড় উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে-এমপি নূরুল সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, চোরাই মোবাইলসহ আটক ৩ চাঁপাইনবাবগেঞ্জে এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা, মিষ্টিমুখে বরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শাশুড়ির ঘর থেকে ২০ লাখ টাকা চুরি, জামাইসহ গ্রেপ্তার ২ গৌরনদীতে ভাড়া বাসায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ, হত্যা না আত্মহত্যা ?

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা,আসামি অজ্ঞাত ২০-২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত ভবন ২ যেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা আদালত চত্বরের ঘটনা এবার মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস এবং বিচারকের খাস কামরায় হামলা-ভাঙচুর, হট্টগোল সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালত চত্বরে ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়নি। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন (মামলা নং জিআর-৬১২/২০২৩ নবাব, সেশন মামলা নং ১১৪/২০২৪ এসটিসি)।

জামিন শুনানি শেষে আসামিরা এজলাস কক্ষে ছবি তুলতে চাইলে দায়িত্বরত স্টাফ তাতে বাধা দেন। এ সময় আসামিরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন বলে জানা যায়। এদিকে আদালতকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ সময় দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ প্রসঙ্গে বিচারক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান আদালতসংশ্লিষ্টরা।

এরপরই বিচারকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এজলাসে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য ও আদালতকক্ষে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে।

পরে একই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আরেক আসামির জামিন আবেদন নিয়ে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী বিচারকের খাস কামরায় গেলে বিচারক তাকে পরদিন আবেদন করতে বলেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা এজলাসের জানালা এবং বিচারকের খাস কামরার দরজা-জানালায় ভাঙচুর চালান।

‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আবু হাসিব ঘটনাটিকে আদালত প্রাঙ্গণে ‘মব সৃষ্টি’র ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা বিচারকের খাস কামরার সামনে জড়ো হয়ে দরজায় ভাঙচুর চালায়। তার ভাষ্যমতে, আদালতের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিচারকের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তা আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করাই উচিত। আদালতে হট্টগোল, ভয়ভীতি সৃষ্টি বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশ্নের মুখে জড়িতদের পরিচয়

মামলায় ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কারা আদালতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং তারা মামলার আসামিপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাকি বাইরে থেকে কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বড় আকারের বিশৃঙ্খলার জন্ম দিতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, কারণ বিচারকের পদ রাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার নামে এজলাসে হামলা বা বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত করার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য লিখিত অভিযোগ, প্রশাসনিক অনুসন্ধান কিংবা আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের পথ খোলা রয়েছে।

আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনায় শুধু ভাঙচুরই নয়, আদালতের নিরাপত্তা ও বিচারিক পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবীদের মতে, আদালত এমন একটি স্থান, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় প্রভাব বিচারিক কার্যক্রমের ওপর পড়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা কেবল স্থাপনার ক্ষতি নয়, বরং বিচারিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার ওপরও আঘাত হানে বলে মনে করেন তারা।

তদন্তের অগ্রগতি

দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। এখন পুলিশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করা এবং প্রকৃত জড়িতদের চিহ্নিত করা।

সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন জানান, গত ৯ আগস্ট আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ১০ আগস্ট রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আটঘরিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল পেট্রল পাম্প ও ওষুধের দোকান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা,আসামি অজ্ঞাত ২০-২৫

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা আদালত চত্বরের ঘটনা এবার মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস এবং বিচারকের খাস কামরায় হামলা-ভাঙচুর, হট্টগোল সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালত চত্বরে ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়নি। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন (মামলা নং জিআর-৬১২/২০২৩ নবাব, সেশন মামলা নং ১১৪/২০২৪ এসটিসি)।

জামিন শুনানি শেষে আসামিরা এজলাস কক্ষে ছবি তুলতে চাইলে দায়িত্বরত স্টাফ তাতে বাধা দেন। এ সময় আসামিরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন বলে জানা যায়। এদিকে আদালতকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ সময় দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ প্রসঙ্গে বিচারক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান আদালতসংশ্লিষ্টরা।

এরপরই বিচারকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এজলাসে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য ও আদালতকক্ষে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে।

পরে একই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আরেক আসামির জামিন আবেদন নিয়ে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী বিচারকের খাস কামরায় গেলে বিচারক তাকে পরদিন আবেদন করতে বলেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা এজলাসের জানালা এবং বিচারকের খাস কামরার দরজা-জানালায় ভাঙচুর চালান।

‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আবু হাসিব ঘটনাটিকে আদালত প্রাঙ্গণে ‘মব সৃষ্টি’র ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা বিচারকের খাস কামরার সামনে জড়ো হয়ে দরজায় ভাঙচুর চালায়। তার ভাষ্যমতে, আদালতের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিচারকের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তা আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করাই উচিত। আদালতে হট্টগোল, ভয়ভীতি সৃষ্টি বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশ্নের মুখে জড়িতদের পরিচয়

মামলায় ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কারা আদালতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং তারা মামলার আসামিপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাকি বাইরে থেকে কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বড় আকারের বিশৃঙ্খলার জন্ম দিতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, কারণ বিচারকের পদ রাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার নামে এজলাসে হামলা বা বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত করার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য লিখিত অভিযোগ, প্রশাসনিক অনুসন্ধান কিংবা আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের পথ খোলা রয়েছে।

আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনায় শুধু ভাঙচুরই নয়, আদালতের নিরাপত্তা ও বিচারিক পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবীদের মতে, আদালত এমন একটি স্থান, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় প্রভাব বিচারিক কার্যক্রমের ওপর পড়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা কেবল স্থাপনার ক্ষতি নয়, বরং বিচারিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার ওপরও আঘাত হানে বলে মনে করেন তারা।

তদন্তের অগ্রগতি

দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। এখন পুলিশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করা এবং প্রকৃত জড়িতদের চিহ্নিত করা।

সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন জানান, গত ৯ আগস্ট আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ১০ আগস্ট রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।