ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
কম্পিউটার দোকান কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, মীমাংসার পরদিনই হামলা গ্রীন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি উত্তীর্ণদের ফুল দিয়ে বরণ রাত ৮টায় বন্ধ হবে শপিংমল, সন্ধ্যা ৭টায় নিভবে আলোকসজ্জা বেরোবিতে ৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান কমিটিতেই বিতর্কিত সদস্য ইবিতে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ভ্যানচালক গ্রেপ্তার জাতীয় পলিসি ক্যাম্পে সুযোগ পেলেন বেরোবি শিক্ষার্থী আইরিন ময়মনসিংহে মিরান হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাফিজুর গ্রেফতার নাটোরে পালিত হলো ফজলুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী বিশেষজ্ঞশূন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে- চিকিৎসা নিতে ছুটতে হচ্ছে রাজশাহী আটঘরিয়ায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল পেট্রল পাম্প ও ওষুধের দোকান

বেরোবিতে ৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান কমিটিতেই বিতর্কিত সদস্য

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কথিত গোপন তৎপরতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাতজন শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এই কমিটির কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আদেশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। এই তালিকায় বেরোবির কর্মরত ও সাময়িক বরখাস্ত থাকা কয়েকজন শিক্ষকের নামও রয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা. রেহেনা আক্তার মনি। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

জানা গেছে, কমিটির আহ্বায়ক ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে অতীতেও বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এর আগে যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তার বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় তাকে নতুন কমিটির দায়িত্ব দেওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কমিটির সদস্য ড. মো. হারুন-আল-রশীদ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর প্যানেল থেকে নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ এবং দলটির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

কমিটির সদস্যদের এমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় থাকায় অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত।

কমিটির অনুসন্ধানের আওতায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মন্ডল এবং গণিত বিভাগের ড. মশিউর রহমান, যারা জুলাইয়ে আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন প্রফেসর ড. আয়েশা আকতার আঁখি, প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন এবং আরও কয়েকজন শিক্ষক।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়, বরং তা অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন জমার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অনুসন্ধান কমিটিকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ যাচাইয়ে নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি, তবে যাদের বিরুদ্ধেই প্রশ্ন ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের দিয়ে তদন্ত করালে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অভিযোগ ওঠামাত্র কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগ উপেক্ষা করাও উচিত নয়। তাই কমিটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক একটি প্রতিবেদনই তাদের কাম্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

কম্পিউটার দোকান কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, মীমাংসার পরদিনই হামলা

বেরোবিতে ৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান কমিটিতেই বিতর্কিত সদস্য

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কথিত গোপন তৎপরতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাতজন শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এই কমিটির কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আদেশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। এই তালিকায় বেরোবির কর্মরত ও সাময়িক বরখাস্ত থাকা কয়েকজন শিক্ষকের নামও রয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা. রেহেনা আক্তার মনি। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

জানা গেছে, কমিটির আহ্বায়ক ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে অতীতেও বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এর আগে যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তার বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থীর দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় তাকে নতুন কমিটির দায়িত্ব দেওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কমিটির সদস্য ড. মো. হারুন-আল-রশীদ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘নীল দল’-এর প্যানেল থেকে নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ এবং দলটির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

কমিটির সদস্যদের এমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় থাকায় অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত।

কমিটির অনুসন্ধানের আওতায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মন্ডল এবং গণিত বিভাগের ড. মশিউর রহমান, যারা জুলাইয়ে আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন প্রফেসর ড. আয়েশা আকতার আঁখি, প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন এবং আরও কয়েকজন শিক্ষক।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়, বরং তা অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন জমার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে অনুসন্ধান কমিটিকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ যাচাইয়ে নিরপেক্ষতা অত্যন্ত জরুরি, তবে যাদের বিরুদ্ধেই প্রশ্ন ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে তাদের দিয়ে তদন্ত করালে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অভিযোগ ওঠামাত্র কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগ উপেক্ষা করাও উচিত নয়। তাই কমিটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক একটি প্রতিবেদনই তাদের কাম্য।