ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

সাপের দংশনে মৃত নারীকে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৫ Time View

সখীপুরে সাপের দংশনে মৃত নারীর কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক করার অভিযোগ উঠেছে এক ওঝার বিরুদ্ধে

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের দংশনে মারা যাওয়া এক নারীকে কবর দেওয়ার তিন দিন পর ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন এক ওঝা। কবরের একাংশ খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে ওই ওঝা দাবি করেন, লাশে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ওই নারীকে জীবিত করা সম্ভব।

ঘটনাটি ঘটেছে সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ গ্রামের ভাতকুড়া এলাকায়। মৃত নারীর নাম হাসনা বেগম (৫৮)। তিনি ওই গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর মেয়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বাসাইল উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামে ওই ওঝা গত শনিবার বিকেলে হাসনা বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর কবরের কাছে যান। এরপর কবরের একপাশ সামান্য খুঁড়ে ভেতরের গন্ধ শোঁকার পাশাপাশি সেখানে ঝাড়ফুঁক করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিষধর সাপের দংশনের পর স্বজনরা হাসনা বেগমকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে একই দিন রাতে চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কবরের পাশে গিয়ে ওঝা গাজী মিয়া পরিবারের সদস্যদের বলেন, হাসনা বেগমের শরীরে পচন না ধরলে বিশেষ ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

ওঝা পরিবারের সদস্যদের আরও জানান, পরবর্তী সময়ে তিনি আবার কবরের পাশে এসে পরিস্থিতি দেখবেন। দুর্গন্ধ না থাকলে লাশ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষের প্রভাব দূর করার চেষ্টা করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে পরদিন রোববার সকালে গাজী মিয়া ফোন করে জানান, রাতে ‘ধ্যান’ করে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে ওই নারীর শরীরে পচন ধরেছে। ফলে তাঁকে আর জীবিত করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে কবরের পাশে ওই ওঝার ঝাড়ফুঁক করার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। এরপর তাঁকে আবার জীবিত করার দাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

ওঝার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, ওই ব্যক্তি কারও কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন—এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাপের দংশনে মৃত নারীকে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের দংশনে মারা যাওয়া এক নারীকে কবর দেওয়ার তিন দিন পর ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন এক ওঝা। কবরের একাংশ খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে ওই ওঝা দাবি করেন, লাশে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ওই নারীকে জীবিত করা সম্ভব।

ঘটনাটি ঘটেছে সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ গ্রামের ভাতকুড়া এলাকায়। মৃত নারীর নাম হাসনা বেগম (৫৮)। তিনি ওই গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর মেয়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বাসাইল উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামে ওই ওঝা গত শনিবার বিকেলে হাসনা বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর কবরের কাছে যান। এরপর কবরের একপাশ সামান্য খুঁড়ে ভেতরের গন্ধ শোঁকার পাশাপাশি সেখানে ঝাড়ফুঁক করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিষধর সাপের দংশনের পর স্বজনরা হাসনা বেগমকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে একই দিন রাতে চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কবরের পাশে গিয়ে ওঝা গাজী মিয়া পরিবারের সদস্যদের বলেন, হাসনা বেগমের শরীরে পচন না ধরলে বিশেষ ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

ওঝা পরিবারের সদস্যদের আরও জানান, পরবর্তী সময়ে তিনি আবার কবরের পাশে এসে পরিস্থিতি দেখবেন। দুর্গন্ধ না থাকলে লাশ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষের প্রভাব দূর করার চেষ্টা করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে পরদিন রোববার সকালে গাজী মিয়া ফোন করে জানান, রাতে ‘ধ্যান’ করে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে ওই নারীর শরীরে পচন ধরেছে। ফলে তাঁকে আর জীবিত করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে কবরের পাশে ওই ওঝার ঝাড়ফুঁক করার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। এরপর তাঁকে আবার জীবিত করার দাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

ওঝার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, ওই ব্যক্তি কারও কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন—এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে