
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে গুপ্তছড়া ঘাট হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট মাঝসমুদ্রে জ্বালানি ফুরিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এ সময় সাগর ছিল উত্তাল। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢেউয়ের মধ্যে স্পিডবোটটি দীর্ঘ সময় ভাসতে থাকে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ৮ যাত্রী। পরে ভাসতে ভাসতে সীতাকুণ্ড উপকূলের ম্যানগ্রোভ বনের কাছে গিয়ে স্পিডবোটটি থামলে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের মধ্যে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হয় রোববার।
জানা গেছে, আদালতে হাজিরা ও চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য আটজন যাত্রী শনিবার সকাল ১০টার দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে যান। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌপথে চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনের কারণে তারা ৩ হাজার ২০০ টাকায় ১০ আসনের একটি স্পিডবোট ভাড়া করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
সমুদ্র উত্তাল থাকায় বড় ঢেউ ও তীব্র স্রোতের মধ্য দিয়েই এগোচ্ছিল স্পিডবোটটি। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চালক ও সহযোগীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সেটি সচল করতে পারেননি। একপর্যায়ে যাত্রীদের জানানো হয়, স্পিডবোটটির জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে।
এতে মাঝসমুদ্রে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তাল ঢেউয়ের কারণে যেকোনো সময় নৌযানটি বিপদে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
স্পিডবোটের যাত্রী নূর হোসেন (২৮) বলেন, জরুরি কাজ থাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা যাত্রা করেছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে চালক ও সহযোগীরা প্রথমে ইঞ্জিন ঠিক করার চেষ্টা করেন। পরে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। মাঝসাগরে নৌযানটি থেমে যাওয়ার পর বড় ঢেউয়ের মধ্যে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্পিডবোটটি তীরের দিকে গিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের কাছে আটকে যায়।
যাত্রীরা জানান, ঘটনার পরও তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। মাঝসমুদ্রে দীর্ঘ সময় নৌযান অচল হয়ে থাকার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সমুদ্রবন্দরে আবহাওয়া বিভাগও সতর্কসংকেত জারি করেছিল।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার বেশি সতর্কসংকেত জারি হলে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শনিবারও এমন নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই স্পিডবোটটি সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি বড় ধরনের বিপদে পরিণত হতে পারত। স্পিডবোটটির রুট পারমিট ছিল কি না এবং অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌযান পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি ছাড়া যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে
অধিকার ডেস্কঃ 























