
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় শিকারির হাত থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি টিয়াপাখি অবমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় পাখি শিকারের অভিযোগে মিনার আলী (২০) নামে এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর পাখি শিকার করবেন না—এ মর্মে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেতে টিয়াপাখি ধরার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় মিনার আলীকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের ১৫ রশিয়া গ্রামের মো. হাবিল আলীর ছেলে।
আটকের সময় তার কাছ থেকে জীবিত কয়েকটি টিয়াপাখি উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন উদ্ধারকৃত পাখিগুলো শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে আসে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় টিয়া, শালিক, দোয়েল, বুলবুলিসহ নানা প্রজাতির পাখি শিকারের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ফসলের মাঠ, বাগান ও গ্রামীণ জনপদের গাছপালায় জাল পেতে কিংবা ফাঁদ ব্যবহার করে পাখি ধরার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। পরে এসব পাখি স্থানীয় বাজার কিংবা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়।
প্রকৃতিবিদদের মতে, টিয়াপাখি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাখিরা বীজ বিস্তার, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। নির্বিচারে পাখি শিকার চলতে থাকলে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পাখি শিকার, ক্রয়-বিক্রয় এবং অবৈধভাবে আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। পাখি শিকার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখির ভূমিকা অপরিসীম। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো ব্যক্তি পাখি শিকার বা বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে টিয়াপাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপাখি আইনগত সুরক্ষার আওতায় রয়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসনিক অভিযান ও জনসচেতনতা একসঙ্গে জোরদার করা গেলে পাখি শিকার কমবে এবং দেশের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 
























