ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
দেশের সব বেসরকারি মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনের নির্দেশ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চালু হলো নতুন মেডিকেল সেন্টার মাগুরায় নিজ বাসা থেকে মোটর শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার ৭ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা চাঁপাইনবাবগঞ্জে লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আড়াই মাস পর ৭ কারাবন্দীর জামিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন (কলাপট্টি) সড়কের নির্মাণকাজ শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গোমস্তাপুরে বিএনপির প্রস্তুতি জোরদার, কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে স্কুটিসহ ৫০০পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্যারট ফিশ

কুয়াকাটার মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে বিরল প্রজাতির প্যারট ফিশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি প্যারট ফিশ। স্থানীয়ভাবে ‘টিয়া মাছ’ নামে পরিচিত এই মাছ উপকূলীয় অঞ্চলে সচরাচর দেখা যায় না। মাছটি মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আনার পর সেটি একনজর দেখতে ভিড় জমান উৎসুক মানুষজন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চরমোন্তাজ এলাকার এফবি ভাই ভাই ট্রলারে ধরা পড়া মাছটি মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ফয়সাল ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হয়। প্রায় ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছটি পরবর্তীতে নিলামে ৩ হাজার টাকায় কিনে নেন আড়তের মালিক এবং বিক্রির জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয় সেটি।

েলেরা জানান, মাঝি বাবুল মাতুব্বরের নেতৃত্বে ১৭ জন জেলে নিয়ে ট্রলারটি দুইদিন আগে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। রাতে জাল ফেলার পর তা তোলার সময় ইলিশ, পোয়াসহ অন্যান্য মাছের সঙ্গে ধরা পড়ে এই বিরল প্যারট ফিশটি।

ট্রলারের মাঝি বাবুল মাতুব্বর জানান, এর আগে কখনো তাদের জালে এ ধরনের মাছ ধরা পড়েনি এবং এই প্রথমবার এমন মাছ দেখলেন তিনি।

মাছটির পরিচয় সম্পর্কে ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয়দের বর্ণনা ও নমুনা বিশ্লেষণ অনুযায়ী এটি Scarus zufar বা ‘ধোফার প্যারট ফিশ’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যা স্কারিডি (Scaridae) পরিবারভুক্ত একটি সামুদ্রিক মাছ।

তিনি আরও জানান, এ প্রজাতির মাছ সাধারণত প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে সামুদ্রিক এলাকায় বসবাস করে থাকে। তবে খাদ্যের সন্ধান, প্রজনন কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে মাঝেমধ্যে গভীর সমুদ্রেও চলে আসতে পারে এই মাছ, যে কারণে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলারের জালেও কালেভদ্রে এ ধরনের মাছ ধরা পড়ে বলে জানান তিনি।

বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, প্যারট ফিশ প্রবালপ্রাচীরে জন্মানো শৈবাল খেয়ে প্রবালের সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি প্রবাল ক্ষয়ের মাধ্যমে সূক্ষ্ম বালু তৈরির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও এই মাছের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বাংলাদেশের জলসীমায় এ ধরনের মাছ খুবই বিরল। ‘ধোফার প্যারট ফিশ’ নামে পরিচিত Scarus zufar দেশের উপকূলীয় এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না বলে জানান তিনি।


জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বেসরকারি মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল

কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্যারট ফিশ

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি প্যারট ফিশ। স্থানীয়ভাবে ‘টিয়া মাছ’ নামে পরিচিত এই মাছ উপকূলীয় অঞ্চলে সচরাচর দেখা যায় না। মাছটি মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আনার পর সেটি একনজর দেখতে ভিড় জমান উৎসুক মানুষজন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চরমোন্তাজ এলাকার এফবি ভাই ভাই ট্রলারে ধরা পড়া মাছটি মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ফয়সাল ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হয়। প্রায় ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছটি পরবর্তীতে নিলামে ৩ হাজার টাকায় কিনে নেন আড়তের মালিক এবং বিক্রির জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয় সেটি।

েলেরা জানান, মাঝি বাবুল মাতুব্বরের নেতৃত্বে ১৭ জন জেলে নিয়ে ট্রলারটি দুইদিন আগে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। রাতে জাল ফেলার পর তা তোলার সময় ইলিশ, পোয়াসহ অন্যান্য মাছের সঙ্গে ধরা পড়ে এই বিরল প্যারট ফিশটি।

ট্রলারের মাঝি বাবুল মাতুব্বর জানান, এর আগে কখনো তাদের জালে এ ধরনের মাছ ধরা পড়েনি এবং এই প্রথমবার এমন মাছ দেখলেন তিনি।

মাছটির পরিচয় সম্পর্কে ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয়দের বর্ণনা ও নমুনা বিশ্লেষণ অনুযায়ী এটি Scarus zufar বা ‘ধোফার প্যারট ফিশ’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যা স্কারিডি (Scaridae) পরিবারভুক্ত একটি সামুদ্রিক মাছ।

তিনি আরও জানান, এ প্রজাতির মাছ সাধারণত প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে সামুদ্রিক এলাকায় বসবাস করে থাকে। তবে খাদ্যের সন্ধান, প্রজনন কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে মাঝেমধ্যে গভীর সমুদ্রেও চলে আসতে পারে এই মাছ, যে কারণে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলারের জালেও কালেভদ্রে এ ধরনের মাছ ধরা পড়ে বলে জানান তিনি।

বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, প্যারট ফিশ প্রবালপ্রাচীরে জন্মানো শৈবাল খেয়ে প্রবালের সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি প্রবাল ক্ষয়ের মাধ্যমে সূক্ষ্ম বালু তৈরির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও এই মাছের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বাংলাদেশের জলসীমায় এ ধরনের মাছ খুবই বিরল। ‘ধোফার প্যারট ফিশ’ নামে পরিচিত Scarus zufar দেশের উপকূলীয় এলাকায় সচরাচর দেখা যায় না বলে জানান তিনি।