ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
শিবগঞ্জে নির্যাতিত ও দুঃস্থ নারী-শিশুদের মাঝে বিশেষ অনুদান বিতরণ শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপসহ যুবক আটক ময়মনসিংহ আউটার স্টেডিয়াম শহর প্রতিরক্ষা দলের সভাপতি খসরু, সম্পাদক টিটু লক্ষ্মীপুরে জমি বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ দিয়ে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ ত্রিশালকে ২-১ গোলে হারিয়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের শিরোপা ধরে রাখল ঈশ্বরগঞ্জ বাগাতিপাড়ায় কেক কেটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন নলডাঙ্গার বারনই নদীতে ভেসে উঠছে শত শত মাছ, বিষক্রিয়া নাকি গ্যাস? যে ৩ অপরাধের পরিণতি হবে ভয়াবহ: কী বলছে হাদিস নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য রেখা বেগম ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ

লক্ষ্মীপুরে জমি বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ দিয়ে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মারা যাওয়া মাছের স্তূপ।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা আজিজ আলী হাওলাদারের প্রায় তিন একর আয়তনের পুকুরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্তদের বরাতে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঘুম থেকে উঠে পুকুরের পাশে গিয়ে তারা দেখতে পান পানির উপরে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে রয়েছে। কিছু মাছ সাদা রঙ ধারণ করে ভাসতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পুকুরের মাছ নিধন করার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছে। এর প্রমাণস্বরূপ পুকুরপাড় থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এতে পুকুরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায় এবং পরিবারটি প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ফাতেমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার দেবরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং সেই বিরোধের জেরেই তাদের পুকুরের মাছ নিধন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে পুকুরের সব মাছ মরে ভাসতে দেখে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, মাছ চাষের আয়েই তাদের সংসার পরিচালিত হয়। একসঙ্গে এত মাছ মারা যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং যারা এই ঘটনায় জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার ছেলেকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় থানায় গিয়ে মামলা করার সামর্থ্যও তাদের নেই বলে জানান তিনি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ বিচার প্রার্থনা করেন তারা।

তবে ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত শরফ আলী হাওলাদারের স্ত্রী কুলসুমা এ বিষয়ে বলেন, পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মারার ঘটনাটি সত্য। তবে গত রাতে প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

স্থানীয়রা জানান, পুকুরে বিপুল সংখ্যক মাছ মারা যাওয়ার ফলে পানিতে ও পুকুরপাড়ে মৃত মাছের স্তূপ দেখা গেছে। প্রকৃতপক্ষে বিষ প্রয়োগের কারণেই মাছ মারা গেছে কি না তা নিশ্চিত হতে পানির নমুনা ও মৃত মাছ পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করা হোক। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজ হাসনাইন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এক্ষেত্রে তাদের কিছু করণীয় নেই, কারণ বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ব্যাপার। ভুক্তভোগী থানায় বা আদালতে মামলা করলে সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব তাদের কাছে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আব্দুর রহিম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবগঞ্জে নির্যাতিত ও দুঃস্থ নারী-শিশুদের মাঝে বিশেষ অনুদান বিতরণ

লক্ষ্মীপুরে জমি বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ দিয়ে ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা আজিজ আলী হাওলাদারের প্রায় তিন একর আয়তনের পুকুরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্তদের বরাতে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঘুম থেকে উঠে পুকুরের পাশে গিয়ে তারা দেখতে পান পানির উপরে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে রয়েছে। কিছু মাছ সাদা রঙ ধারণ করে ভাসতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পুকুরের মাছ নিধন করার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছে। এর প্রমাণস্বরূপ পুকুরপাড় থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এতে পুকুরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায় এবং পরিবারটি প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ফাতেমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার দেবরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং সেই বিরোধের জেরেই তাদের পুকুরের মাছ নিধন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে পুকুরের সব মাছ মরে ভাসতে দেখে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, মাছ চাষের আয়েই তাদের সংসার পরিচালিত হয়। একসঙ্গে এত মাছ মারা যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং যারা এই ঘটনায় জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার ছেলেকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় থানায় গিয়ে মামলা করার সামর্থ্যও তাদের নেই বলে জানান তিনি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ বিচার প্রার্থনা করেন তারা।

তবে ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত শরফ আলী হাওলাদারের স্ত্রী কুলসুমা এ বিষয়ে বলেন, পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মারার ঘটনাটি সত্য। তবে গত রাতে প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

স্থানীয়রা জানান, পুকুরে বিপুল সংখ্যক মাছ মারা যাওয়ার ফলে পানিতে ও পুকুরপাড়ে মৃত মাছের স্তূপ দেখা গেছে। প্রকৃতপক্ষে বিষ প্রয়োগের কারণেই মাছ মারা গেছে কি না তা নিশ্চিত হতে পানির নমুনা ও মৃত মাছ পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করা হোক। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজ হাসনাইন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এক্ষেত্রে তাদের কিছু করণীয় নেই, কারণ বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ব্যাপার। ভুক্তভোগী থানায় বা আদালতে মামলা করলে সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব তাদের কাছে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আব্দুর রহিম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।