ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ১ হাজার ছাড়াল টেকনাফে অপহরণ ও মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত দুজনের আত্মসমর্পণ টোটাল এনার্জির কাছ থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে চাকসুর মানববন্ধন আশির দশকে ফিরে যাওয়ার এআই ট্রেন্ড, যেভাবে আপনিও অংশ নেবেন স্কালোনির আর্জেন্টিনা অধ্যায় কি শেষের পথে? বাড়ছে অনিশ্চয়তা ডিজিটাল বিবাহ-তালাক নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী দীর্ঘ বিরতির পর নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরছেন ববি

আপিল বিভাগে কী ঘটেছিল, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৪২ Time View

আপিল বিভাগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ চার বিচারপতি। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রধান বিচারপতি কেন এজলাস ছেড়ে যান এবং ওই সময় আদালতে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মামলার সূত্রপাত। একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদী পাঁচটি রিট আবেদন করেন। তবে আগের রিট খারিজের বিষয়টি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ ওই রিটের এক নারী আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে আরও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলাটিতে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে আদালত আদেশ দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী তাঁর পাশে বসে ছিলেন। তবে তখন মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ওই মামলার আদেশ দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন আগের মামলায় জরিমানা দেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।’

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করেই আদেশ দিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মামলায় গুরুতর প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে এবং আপিল বিভাগের আগের আদেশও গোপন করা হয়েছিল।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনকে এ বিষয়ে আর কথা না বলতে বলেন। তখন খোকন মন্তব্য করেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্যটি কিছুটা হালকাভাবে নেন। পরে তিনি মাহবুব উদ্দিন খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি সত্যিই এমন বক্তব্য দিতে চেয়েছেন কি না। খোকন একই বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিলে প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য ‘অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’।

এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, এমন মন্তব্যের পর তিনি ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে আর অংশ নেবেন না। এ কথা বলেই তিনি এজলাস ত্যাগ করেন। পরে আপিল বিভাগের আরও তিন বিচারপতিও এজলাস ছেড়ে যান।

ঘটনা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিই আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতের কার্যক্রমে বিচারপতি ও আইনজীবীদের মধ্যে কখনো ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে এবং বিচারপতিরা কোনো কোনো সময় আইনজীবীদের ভর্ৎসনাও করতে পারেন। তবে এসব বিষয় আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপিল বিভাগে কী ঘটেছিল, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ চার বিচারপতি। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রধান বিচারপতি কেন এজলাস ছেড়ে যান এবং ওই সময় আদালতে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মামলার সূত্রপাত। একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদী পাঁচটি রিট আবেদন করেন। তবে আগের রিট খারিজের বিষয়টি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ ওই রিটের এক নারী আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে আরও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলাটিতে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে আদালত আদেশ দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী তাঁর পাশে বসে ছিলেন। তবে তখন মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ওই মামলার আদেশ দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন আগের মামলায় জরিমানা দেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।’

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করেই আদেশ দিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মামলায় গুরুতর প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে এবং আপিল বিভাগের আগের আদেশও গোপন করা হয়েছিল।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনকে এ বিষয়ে আর কথা না বলতে বলেন। তখন খোকন মন্তব্য করেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্যটি কিছুটা হালকাভাবে নেন। পরে তিনি মাহবুব উদ্দিন খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি সত্যিই এমন বক্তব্য দিতে চেয়েছেন কি না। খোকন একই বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিলে প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য ‘অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’।

এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, এমন মন্তব্যের পর তিনি ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে আর অংশ নেবেন না। এ কথা বলেই তিনি এজলাস ত্যাগ করেন। পরে আপিল বিভাগের আরও তিন বিচারপতিও এজলাস ছেড়ে যান।

ঘটনা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিই আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতের কার্যক্রমে বিচারপতি ও আইনজীবীদের মধ্যে কখনো ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে এবং বিচারপতিরা কোনো কোনো সময় আইনজীবীদের ভর্ৎসনাও করতে পারেন। তবে এসব বিষয় আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন।