
গ্রামীণ হাট-বাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতির বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। এসব বাজারে আধুনিক অবকাঠামো তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া থেকে সরকারি রাজস্ব আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ লক্ষ্যেই বগুড়ার তিন উপজেলায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি দুইতলা বিপণি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং অন্যগুলোর বেশ কয়েকটির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এসব বিপণি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না হাট, দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের তালুচহাট ও সদর ইউনিয়নের ধাপের হাট এবং কাহালু পৌর হাট-বাজার, দুর্গাপুর হাট ও মালঞ্চা ইউনিয়নের মালঞ্চা হাট রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনগুলোর নিচতলা উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। সেখানে মাছ, মাংস, মুরগি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার বসানোর ব্যবস্থা থাকবে। আর দ্বিতীয় তলায় পৃথক কক্ষবিশিষ্ট দোকানে হার্ডওয়্যার, কসমেটিকস, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হচ্ছে।
এতে অস্থায়ী হাটের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা স্থায়ী ও পরিকল্পিত পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর হাটের বিপণি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি ভবনটির উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন। উপজেলা প্রশাসনের কাছে ভবনটি হস্তান্তরের পর দোকান বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণাধীন বাকি বিপণি ভবনগুলোও হস্তান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে গত ৩০ জুন এলজিইডি বগুড়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব আলম। পাশাপাশি কাজের মান ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রকৌশল কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছেন। অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলা ঠেকাতেও নজরদারি রাখা হয়েছে।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু তালিম হোসেন জানান, গুনাহার ইউনিয়নের তালুচহাটে দুইতলা ভবনটিতে মোট ২২টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ভবনের নিচতলার দুই কর্নারে চারটি কক্ষসহ দোকানের ব্যবস্থা রয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়া সদর ইউনিয়নের ধাপের হাটে তিন কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দুইতলা বিপণি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনটির নিচতলা উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় থাকছে পৃথক কক্ষবিশিষ্ট দোকান।
শাজাহানপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাশেদ ইমরান জানান, আড়িয়া ইউনিয়নের জামুন্না হাটে দুই কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুইতলা বিপণি মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। নিচতলা উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি দ্বিতীয় তলায় ১৬টি দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।
কাহালু উপজেলা প্রকৌশলী মুক্তার হোসেন খান জানান, দুর্গাপুর হাটে দুই কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুইতলা মার্কেটটি সম্প্রতি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর নিচতলা উন্মুক্ত এবং দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ১৫টি দোকান। এছাড়া কাহালু পৌর হাট-বাজারে এক কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বিপণি ভবনে ১৪টি দোকানঘর থাকবে। মালঞ্চা হাটে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে আরেকটি দুইতলা ভবন। এর নিচতলাও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলায় থাকবে ১৪টি দোকানঘর।
এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, উন্নয়নকাজে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। তিন উপজেলার হাট-বাজারে নির্মাণাধীন বিপণি ভবনগুলোর অধিকাংশই এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাট-বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বিপণি ভবনের দোকানঘর নির্ধারিত শ্রেণি বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে লটারির মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
বিপণি ভবনগুলো চালু হলে হাট-বাজারে ব্যবসার পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। স্থায়ী দোকান ও উন্মুক্ত নিত্যপণ্যের বাজারের কারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি পরিবহন, শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন সেবাখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দোকানের সালামি ও মাসিক ভাড়া থেকে সরকারি রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
অধিকার ডেস্কঃ 
























