ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
যে ৩ অপরাধের পরিণতি হবে ভয়াবহ: কী বলছে হাদিস নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য রেখা বেগম ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ, লংমার্চে বাধা এলে জনগণই প্রতিহত করবে- আখতার শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টে গেল আসামিবাহী পুলিশ জিপ, নিহত এক পুলিশ সদস্য আসিফ মাহমুদের সময়কার নিয়োগ-পদোন্নতি ও বদলির সব নথি চাইল দুদক সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের জিডি, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯-পুলিশ সদরদপ্তর শাপলা চত্বর মামলার বিচার দ্রুত শেষের তাগিদ প্রসিকিউশনের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা রমনায় ৭ কেজি গাঁজাসহ ‘মিন্টু’ গ্রেপ্তার

দুই মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৪২ Time View

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭১৩ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটির আয় বেড়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, শতাংশের হিসাবে যা ৫.১২ শতাংশ। জুলাই মাসে রপ্তানিতে কিছুটা পতন দেখা গেলেও আগস্টে নিট ও ওভেন—উভয় ধরনের পোশাকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে দুই মাসের হিসাব ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক থেকে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭১৩ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫.১২ শতাংশ।

দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে নিটওয়্যার খাতে। জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.১৭ শতাংশ, অর্থাৎ বাড়তি আয় এসেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকেও ইতিবাচক আয় প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। দুই মাসে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩১৮ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। এতে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৮১ শতাংশ, যা মূল্যের হিসাবে প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার।

তবে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ওই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয় ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার, যেখানে আগের বছরের জুলাইয়ে এই আয় ছিল ৩৯৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ জুলাই মাসে মোট রপ্তানি আয় কমেছে ১.৯২ শতাংশ।

জুলাই মাসের বিস্তারিত হিসাবে দেখা যায়, নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২১৫ কোটি ৯ লাখ ডলার, যেখানে আগের বছরের একই মাসে এই আয় ছিল ২১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে জুলাইয়ে নিট পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৯০ শতাংশ।

একই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এই আয় ছিল ১৭৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এতে ওভেন পোশাকে রপ্তানি কমেছে ৩.১৬ শতাংশ। তবে জুলাইয়ের এই নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে আগস্টে পোশাক রপ্তানিতে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এই মাসে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারে, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ৩১৬ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে আয় বেড়েছে ১৩.৯২ শতাংশ, যা মূল্যের হিসাবে প্রায় ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

আগস্টের এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে নিটওয়্যার খাত। এই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৭৭ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪.৮৮ শতাংশ, অর্থাৎ এক মাসেই এ খাত থেকে বাড়তি আয় এসেছে প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

ওভেন পোশাকেও আগস্টে ভালো প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। এই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের আগস্টে ছিল ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে আয় বেড়েছে ১২.৭০ শতাংশ, যা মূল্যের হিসাবে প্রায় ১৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

ইপিবির সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় খাতই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে, তবে প্রবৃদ্ধি ও বাড়তি আয়ের পরিমাণে এগিয়ে রয়েছে নিটওয়্যার খাত। জুলাই-আগস্টে মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের মধ্যে নিটওয়্যার থেকে এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার এবং ওভেন থেকে এসেছে ৩৩০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা প্রমাণ করে মোট রপ্তানিতে নিট পোশাকের অবদান তুলনামূলক বেশি।

আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবকে ইতিবাচক অবস্থানে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে বিশ্লেষণে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যে ৩ অপরাধের পরিণতি হবে ভয়াবহ: কী বলছে হাদিস

দুই মাসে পোশাক রপ্তানিতে আয় প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭১৩ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটির আয় বেড়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, শতাংশের হিসাবে যা ৫.১২ শতাংশ। জুলাই মাসে রপ্তানিতে কিছুটা পতন দেখা গেলেও আগস্টে নিট ও ওভেন—উভয় ধরনের পোশাকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে দুই মাসের হিসাব ইতিবাচক ধারায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক থেকে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭১৩ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫.১২ শতাংশ।

দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে নিটওয়্যার খাতে। জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.১৭ শতাংশ, অর্থাৎ বাড়তি আয় এসেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকেও ইতিবাচক আয় প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। দুই মাসে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩১৮ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। এতে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৮১ শতাংশ, যা মূল্যের হিসাবে প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার।

তবে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ওই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয় ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার, যেখানে আগের বছরের জুলাইয়ে এই আয় ছিল ৩৯৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অর্থাৎ জুলাই মাসে মোট রপ্তানি আয় কমেছে ১.৯২ শতাংশ।

জুলাই মাসের বিস্তারিত হিসাবে দেখা যায়, নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২১৫ কোটি ৯ লাখ ডলার, যেখানে আগের বছরের একই মাসে এই আয় ছিল ২১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে জুলাইয়ে নিট পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৯০ শতাংশ।

একই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এই আয় ছিল ১৭৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এতে ওভেন পোশাকে রপ্তানি কমেছে ৩.১৬ শতাংশ। তবে জুলাইয়ের এই নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে আগস্টে পোশাক রপ্তানিতে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এই মাসে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারে, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ৩১৬ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে আয় বেড়েছে ১৩.৯২ শতাংশ, যা মূল্যের হিসাবে প্রায় ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

আগস্টের এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে নিটওয়্যার খাত। এই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৭৭ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪.৮৮ শতাংশ, অর্থাৎ এক মাসেই এ খাত থেকে বাড়তি আয় এসেছে প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

ওভেন পোশাকেও আগস্টে ভালো প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। এই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের আগস্টে ছিল ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে আয় বেড়েছে ১২.৭০ শতাংশ, যা মূল্যের হিসাবে প্রায় ১৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

ইপিবির সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় খাতই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে, তবে প্রবৃদ্ধি ও বাড়তি আয়ের পরিমাণে এগিয়ে রয়েছে নিটওয়্যার খাত। জুলাই-আগস্টে মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের মধ্যে নিটওয়্যার থেকে এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার এবং ওভেন থেকে এসেছে ৩৩০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা প্রমাণ করে মোট রপ্তানিতে নিট পোশাকের অবদান তুলনামূলক বেশি।

আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবকে ইতিবাচক অবস্থানে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে বিশ্লেষণে।