ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

বিমানের ভেতরেই বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা, রাত কাটাতে ভাড়া ২৫০ পাউন্ড

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৬:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৫১ Time View

ব্রিস্টলের শিল্পাঞ্চলে পুরোনো বোয়িং ৭২৭ উড়োজাহাজকে রূপ দেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী আবাসনে।

উড়োজাহাজটি এখন আর আকাশে ওড়ে না। তবে এর ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হতে পারে, আশির দশকের কোনো বিলাসবহুল ব্যক্তিগত জেটে উঠেছেন। কারণ, একটি পুরোনো বোয়িং ৭২৭-কে পুরোপুরি রূপ দেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী আবাসনে। সেখানে রয়েছে দুটি লাউঞ্জ, কিং সাইজের বিছানার শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর এবং আসল ককপিটও।

ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলের একটি শিল্পাঞ্চলে থাকা এই উড়োজাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিচএয়ার’। স্থানীয় উদ্যোক্তা জনি পালমার বিমানটিকে স্বল্পমেয়াদি থাকার জায়গায় রূপান্তর করেছেন। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এখানে এক রাত থাকার ভাড়া শুরু ২৫০ পাউন্ড থেকে। সপ্তাহান্তে তা বেড়ে ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ সময়ে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানা যায়, বোয়িং ৭২৭টি প্রথমবার আকাশে ওড়ে ১৯৬৭ সালে। পরের বছর এটি জাপান এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হয়। ১৯৮১ সালে উড়োজাহাজটিকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপযোগী করে সাজানো হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর ২০১২ সালে বিমানটি অবসরে যায়।

পরবর্তীতে পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজ সংরক্ষণ এলাকায় বিমানটির সন্ধান পান পালমার। তিনি সেটি কিনে নেওয়ার পর ডানা ও ইঞ্জিন খুলে সড়কপথে ব্রিস্টলে নিয়ে যান।

পালমারের ছোটবেলা থেকেই নিজের একটি উড়োজাহাজের মালিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে বিমান ওড়ানোর চেয়ে এর প্রকৌশল এবং ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালি তাকে বেশি আকৃষ্ট করত। তাই এমন একটি উড়োজাহাজই তিনি চেয়েছিলেন, যেটি তার নিজের হবে, কিন্তু আর আকাশে উড়বে না।

শুরুতে নিজের সন্তানদের পার্টি ও রাত কাটানোর জন্য বিমানটি ব্যবহার করতেন পালমার। পরে সেটিকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম দিকে অতিথিদের আগ্রহ খুব বেশি না থাকলেও সময়ের সঙ্গে এটি ভিন্নধর্মী থাকার জায়গা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

বিমানের ভেতরে আশির দশকের আবহ

এক হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা উড়োজাহাজটির ভেতরে এখনো ১৯৮০-এর দশকের সাজসজ্জার অনেকটাই ধরে রাখা হয়েছে। রয়েছে দুটি লাউঞ্জ, কিং সাইজের বিছানাসহ শোবার ঘর, শাওয়ারসহ বাথরুম, সোফা ও পূর্ণাঙ্গ রান্নাঘর।

তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে আসল ককপিট। অতিথিরা সেখানে বসে বিমানের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দেখতে পারেন। যেহেতু বিমানটি আর উড়বে না, তাই ককপিটের অভিজ্ঞতাও অন্যরকম।

উড়োজাহাজটি প্রস্তুতের কাজে যুক্ত পাত্রিজা চুদজিকা জানান, সম্প্রতি এক অতিথি তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছিলেন। ওই ব্যক্তি নিজে একজন পাইলট হওয়ায় ছেলেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে ককপিটে বসান।

তবে রাতের বেলায় একা থাকলে জায়গাটিকে কিছুটা ভিন্ন বা ভৌতিক মনে হতে পারে। শিল্পাঞ্চলটি রাতে অনেকটাই নির্জন হয়ে যায়। উড়োজাহাজের ধাতব কাঠামোর ওপর বাতাসের শব্দও তখন স্পষ্ট শোনা যায়। অতিথিদের জন্য বাইরে গরম পানির টব ও সনার ব্যবস্থাও রয়েছে।

পুরোনো সাজসজ্জাই মূল আকর্ষণ

উড়োজাহাজটির পুরোনো অভ্যন্তর নিয়ে অতিথিদের কেউ কেউ অসন্তোষও জানিয়েছেন। বিশেষ করে গরমের সময়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় অস্বস্তির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিছানার সামনে দুটি বড় পোর্টেবল ফ্যান রাখা হয়েছে।

তবে পালমারের কাছে বিমানের পুরোনো সাজসজ্জাই এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তার মতে, ১৯৮১ সালের সেই সময়কার পরিবেশ ধরে রাখার কারণেই জায়গাটি আলাদা বৈশিষ্ট্য পেয়েছে।

বিমানের অনেক সুইচ ও সরঞ্জাম এখনো আগের অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে অতিথিদের কাছে এটি অনেকটা উড়োজাহাজের ছোট একটি জাদুঘরের মতো মনে হতে পারে।

বিমানটির পুরোনো গদিও এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান পালমার। তার ধারণা, এগুলোর বয়স প্রায় ৪০ বছর হতে পারে। তবে বিছানার চাদর ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী নতুন।

এদিকে উড়োজাহাজটি একসময় কলম্বিয়ার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী পাবলো এসকোবারের মালিকানাধীন ছিল—এমন একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পালমার জানিয়েছেন, এ তথ্যের সত্যতা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

তার ভাষ্য, রেডিটে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রথম এই দাবি সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে একই তথ্য উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যাচাই না করা তথ্য কীভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেটিও স্পষ্ট হয়।

বর্তমানে ‘পিচএয়ার’ আবাসনটি এয়ারবিএনবি ও বুকিং ডটকমের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া যায়। ব্রিস্টলের বিলাসবহুল হোটেলের তুলনায় ভাড়া তুলনামূলক কম রাখার চেষ্টা করছেন পালমার। বিশেষ করে উড়োজাহাজপ্রেমী শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলোকে এখানে থাকার সুযোগ করে দেওয়াই তার অন্যতম লক্ষ্য।

সূত্র: সিএনএন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

বিমানের ভেতরেই বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা, রাত কাটাতে ভাড়া ২৫০ পাউন্ড

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উড়োজাহাজটি এখন আর আকাশে ওড়ে না। তবে এর ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হতে পারে, আশির দশকের কোনো বিলাসবহুল ব্যক্তিগত জেটে উঠেছেন। কারণ, একটি পুরোনো বোয়িং ৭২৭-কে পুরোপুরি রূপ দেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী আবাসনে। সেখানে রয়েছে দুটি লাউঞ্জ, কিং সাইজের বিছানার শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর এবং আসল ককপিটও।

ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলের একটি শিল্পাঞ্চলে থাকা এই উড়োজাহাজটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিচএয়ার’। স্থানীয় উদ্যোক্তা জনি পালমার বিমানটিকে স্বল্পমেয়াদি থাকার জায়গায় রূপান্তর করেছেন। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এখানে এক রাত থাকার ভাড়া শুরু ২৫০ পাউন্ড থেকে। সপ্তাহান্তে তা বেড়ে ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ সময়ে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানা যায়, বোয়িং ৭২৭টি প্রথমবার আকাশে ওড়ে ১৯৬৭ সালে। পরের বছর এটি জাপান এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হয়। ১৯৮১ সালে উড়োজাহাজটিকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপযোগী করে সাজানো হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর ২০১২ সালে বিমানটি অবসরে যায়।

পরবর্তীতে পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজ সংরক্ষণ এলাকায় বিমানটির সন্ধান পান পালমার। তিনি সেটি কিনে নেওয়ার পর ডানা ও ইঞ্জিন খুলে সড়কপথে ব্রিস্টলে নিয়ে যান।

পালমারের ছোটবেলা থেকেই নিজের একটি উড়োজাহাজের মালিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে বিমান ওড়ানোর চেয়ে এর প্রকৌশল এবং ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালি তাকে বেশি আকৃষ্ট করত। তাই এমন একটি উড়োজাহাজই তিনি চেয়েছিলেন, যেটি তার নিজের হবে, কিন্তু আর আকাশে উড়বে না।

শুরুতে নিজের সন্তানদের পার্টি ও রাত কাটানোর জন্য বিমানটি ব্যবহার করতেন পালমার। পরে সেটিকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম দিকে অতিথিদের আগ্রহ খুব বেশি না থাকলেও সময়ের সঙ্গে এটি ভিন্নধর্মী থাকার জায়গা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

বিমানের ভেতরে আশির দশকের আবহ

এক হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা উড়োজাহাজটির ভেতরে এখনো ১৯৮০-এর দশকের সাজসজ্জার অনেকটাই ধরে রাখা হয়েছে। রয়েছে দুটি লাউঞ্জ, কিং সাইজের বিছানাসহ শোবার ঘর, শাওয়ারসহ বাথরুম, সোফা ও পূর্ণাঙ্গ রান্নাঘর।

তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে আসল ককপিট। অতিথিরা সেখানে বসে বিমানের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দেখতে পারেন। যেহেতু বিমানটি আর উড়বে না, তাই ককপিটের অভিজ্ঞতাও অন্যরকম।

উড়োজাহাজটি প্রস্তুতের কাজে যুক্ত পাত্রিজা চুদজিকা জানান, সম্প্রতি এক অতিথি তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এখানে এসেছিলেন। ওই ব্যক্তি নিজে একজন পাইলট হওয়ায় ছেলেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে ককপিটে বসান।

তবে রাতের বেলায় একা থাকলে জায়গাটিকে কিছুটা ভিন্ন বা ভৌতিক মনে হতে পারে। শিল্পাঞ্চলটি রাতে অনেকটাই নির্জন হয়ে যায়। উড়োজাহাজের ধাতব কাঠামোর ওপর বাতাসের শব্দও তখন স্পষ্ট শোনা যায়। অতিথিদের জন্য বাইরে গরম পানির টব ও সনার ব্যবস্থাও রয়েছে।

পুরোনো সাজসজ্জাই মূল আকর্ষণ

উড়োজাহাজটির পুরোনো অভ্যন্তর নিয়ে অতিথিদের কেউ কেউ অসন্তোষও জানিয়েছেন। বিশেষ করে গরমের সময়ে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় অস্বস্তির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিছানার সামনে দুটি বড় পোর্টেবল ফ্যান রাখা হয়েছে।

তবে পালমারের কাছে বিমানের পুরোনো সাজসজ্জাই এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তার মতে, ১৯৮১ সালের সেই সময়কার পরিবেশ ধরে রাখার কারণেই জায়গাটি আলাদা বৈশিষ্ট্য পেয়েছে।

বিমানের অনেক সুইচ ও সরঞ্জাম এখনো আগের অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে অতিথিদের কাছে এটি অনেকটা উড়োজাহাজের ছোট একটি জাদুঘরের মতো মনে হতে পারে।

বিমানটির পুরোনো গদিও এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান পালমার। তার ধারণা, এগুলোর বয়স প্রায় ৪০ বছর হতে পারে। তবে বিছানার চাদর ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী নতুন।

এদিকে উড়োজাহাজটি একসময় কলম্বিয়ার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী পাবলো এসকোবারের মালিকানাধীন ছিল—এমন একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পালমার জানিয়েছেন, এ তথ্যের সত্যতা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

তার ভাষ্য, রেডিটে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রথম এই দাবি সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে একই তথ্য উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যাচাই না করা তথ্য কীভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেটিও স্পষ্ট হয়।

বর্তমানে ‘পিচএয়ার’ আবাসনটি এয়ারবিএনবি ও বুকিং ডটকমের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া যায়। ব্রিস্টলের বিলাসবহুল হোটেলের তুলনায় ভাড়া তুলনামূলক কম রাখার চেষ্টা করছেন পালমার। বিশেষ করে উড়োজাহাজপ্রেমী শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলোকে এখানে থাকার সুযোগ করে দেওয়াই তার অন্যতম লক্ষ্য।

সূত্র: সিএনএন